গল্পছোট গল্প

শরত কাব্য

কোন এক শরতের ভোরে, ইট-কাঠের খাঁচায় বেড়ে ওঠা এক বালকের সাধ হলো সবুজ পাতার মতো বাঁচার। বহুবছরের সাধনায় বালকের পঞ্চভূতের সন্ধান মিলল, পরিশ্রমে গড়ে উঠল বিস্তর বনভূমি। শহুরে বালক হয়ে গেল বনবালক। ঠাঁই নিল বৃক্ষশাখে।

এক দুপুরে পথভুলে সে বনপ্রান্তে হাটছিলো এক অবিন্যস্ত এলোকেশী কিশোরী। খোলা পায়ে তার রাজ্যের সর্বনাশ। তার পাতা মাড়িয়ে চলার শব্দে ছুটে পালালো বনের কাঠবেড়ালী, বন্ধ হলো বনঘুঘুর অলস ডাক। চকিতে নেচে উঠল বালকের মন। সে এক অজানা অনুভুতি, অব্যক্ত ব্যাথা। বালকের সাধ হলো কিশরীর ছোঁয়া পাবার। কিন্তু ততদিনে বৃক্ষদেবতার আশীর্বাদে বালক সবুজপাতার বেশ ধারন করেছে।

বৃন্তের সাথে রচিত হয়েছে বৃক্ষের বন্ধন। আলোকের তীব্র উপস্থিতিতে সবুজ কোষে আগুন জ্বলল। তৈরি হল সবুজ খাদ্য। সে খাদ্যে বালকের অরুচি। শিশিরে স্নাত হলো বালকের সবুজ পত্রকূপ। তাতে বালকের অশুচি। বিকেলের মিষ্টি বাতাসে দুলে উঠলো বালকের সবুজ দেহ। তাতেও বালকের অনীহা।

কিশোরী চলে গেছে বহুদিন। এরপর বহু পূর্নিমা এসেছে, আবার চলে গেছে। বালকের মন ভাল নেই। ততদিনে বালক হলুদ বর্ণ ধারন করেছে, কোষের অনুভুতি শুকিয়ে গেছে। আর বালক তখনও মনেপ্রানে ব্যাকুল সেই কিশোরীর লাগি। এক বসন্তের সূর্যডোবা গোধুলীতে আকাশ রক্তবর্ণ ধারন করল। ঘরে ফেরার বাসনায় উড়ন্ত বনপক্ষী ক্ষনিকের তরে ঠাই নিল বালকের বৃন্তশাখে।

সেই সে শিশির ভেজা ভোরেই ঝরে গেলো বালক। ছিড়ে গেল বৃক্ষের সাথে বৃন্তের বন্ধন। সারারাত নিথর বালক পড়ে রইলো সেঁদোগন্ধযুক্ত মৃত্তিকার বুকে। নিশিতে বাসন্তী চান্নিপসরে ভিজে গেল, অতপর হালকা শিশিরের অস্তিত্ব নিয়ে জ্বলে উঠলো ভোরের সোনারোদে। দুপুরনাগাদ শুকিয়ে ঝনঝনে হয়ে গেলো। সবুজপাতা রূপান্তরিত হলো শুকনো পাতায়।

তারপর! আবার সেই কাঠবিড়ালীর ছুটে পালানোর শব্দ, বনঘুঘুর অলস গান থামানোর নীরবতা। আবার উষ্ণ দুপুরে অবিন্যস্ত এলোকেশীর আগমন। বালক কান পেতে রয়। ওইতো অদূরে শুকনো পাতা গুড়িয়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়, বালক আজো অপেক্ষায় সেই সে এলোকেশী কিশোরীর।

০৬/০১/২০২২, ১১.৪৫ PM

Kuasha

হয় একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ। আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য। একা থাকা, মুভি দেখা, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা ও বই পড়া আমার নেশা। খুব বিরক্ত লাগে পিছনে কিংবা আমার আড়ালে কেউ কথা বললে। লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে নিজেই কখন যে এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে রুপান্তরিত হয়েছি বুঝিনি। জীবনে অনেক কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুই হতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমি ব্যর্থ একজন মানুষ। আমার ব্যর্থতাতেই আমার সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *