অনুবাদ গল্পগল্প

নার্সিসাস আর সেই হ্রদ

নার্সিসাস নামের এক তরুণ প্রতিদিন এক হ্রদের পারে বসে পানিতে নিজের প্রতিচ্ছায়া দেখতো। একদিন সকালে এমনি বিভোর হয়ে নিজেকে দেখার সময় হ্রদের পানিতে পড়ে ডুবে মরে নার্সিসাস। সে যেখানে পড়ে যায়, সেই জায়গাতে একটা ফুল ফোটে। সেই ফুলের নাম রাখা হয় নার্সিসাস। হ্রদটা ছিল একটা বনের পাশে। একদিন বনের দেবীরা এসে দেখলেন, হ্রদের আগেকার মিষ্টি পানির বদলে সব চোখের নোনা পানিতে ভরে গেছে।

তারা হ্রদটাকে জিজ্ঞেস করলেন,

– তুমি কাঁদছো কেন?

হ্রদ উত্তর দিল,

– আমি নার্সিসাসের জন্য কাঁদছি।

দেবীরা বললেন,

– কাঁদাটাই স্বাভাবিক। বনের ভেতর আমরা নার্সিসাসকে কত চেয়েছি, কিন্তু কেবল তুমিই তো সবচেয়ে কাছ থেকে ওর সৌন্দর্য দেখতে পেতে।

হ্রদ তখন প্রশ্ন করলো,

– তাই? নার্সিসাস সুন্দর ছিল?

দেবীরা অবাক হয়ে বললেন,

– বলো কী? এটা তো তোমারই সবচেয়ে ভাল জানার কথা। ও তোমার পানিতেই তো প্রতিদিন নিজেকে দেখতে আসতো।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হ্রদ বললো,

– আমি নার্সিসাসের জন্য কাঁদছি ঠিকই, কিন্তু আমি আসলে কখনো খেয়াল করি নি যে ও সুন্দর ছিল। আমি কাঁদছি কারণ ও যখন আমার তীরে বসে থাকতো, তখন ওর চোখের গভীরে আমি আমার নিজের সৌন্দর্য প্রতিফলিত হতে দেখতাম।


আরো বিদেশী গল্পের অনুবাদ পড়ুন –


গ্রীকপুরাণ ইতিহাস – 

গ্রিকপুরাণে নার্সিসাস বিওশিয়ার থেসপি শহরের এক পুরুষ শিকারী যে তার অনুপম সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। সে জলপরী লিরিওপি এবং নদী দেবতা সেফিসাস এর সন্তান। নিজের সৌন্দর্যে সে এত গর্বিত ছিল যে, যেসব নারী তার প্রেমে পড়ত তাদেরকে সে প্রত্যাখ্যান করত। নেমেসিস তার এ অহংকার দেখে নার্সিসাসকে একটি পুকুরের দিকে আকৃষ্ট করেন। পুকুরে নার্সিসাস নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পেয়ে তার প্রেমে পড়ে যায়। এটি যে কেউ নয়, তার নিজেরই প্রতিচ্ছবিমাত্র, তা সে বুঝতে পারে না। সে হাত বাড়িয়ে বিম্বটি ধরতে চাইলে তা পানিতে হারিয়ে যায়।

নিজের সৌন্দর্যের মায়া কাটাতে না পেরে একসময় সে বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মৃত্যু পর্যন্ত সে প্রতিচ্ছবির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। নার্সিসাসের এই স্বভাব থেকে আত্মকেন্দ্রিকতা বা আত্মপ্রেম বোঝাতে ‘‘নার্সিসিজম” শব্দটি চালু হয়েছে। সেই থেকে প্রতিটা বালিকা থেকে নারী আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায়। রূপ নির্মানে ব্যাস্ত থাকে।

১০/০৪/২০২২, ০৬.১০ PM

Obinash

শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *