অপরাজিতা নাকি মুগ্ধতা
এতিম সেই মেয়েটিতো আট সদস্যের এক গ্রুপের হাতে ধর্ষিত হয়েছিল। ধর্ষণ করিয়েছিল তার আপন ফুপু। না, ধর্ষণ নয়, ওকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর সৌন্দর্য দেখে খুনির দলেরা লোভ সামলাতে পারেনি। তাই মারার আগে অমাণবিকভাবে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে। মেয়েটির অপরাধ ছিল, সে বিশাল সম্পত্তির মালকিন হয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছে নিজের পছন্দের মানুষকে। এতে ফুপুর সম্পত্তি ভোগ দখলে অসুবিধা হবে। মেয়েটির প্রেমিক নাছোড় বান্দা। হন্ত দন্ত হয়ে খুব কৌশলে সন্ধান বের করে। প্রায় অর্ধমৃত অবস্থায় মেয়েটিকে পাওয়া যায়। আইসিউ, লাইফ সাপোর্ট সকল কিছু পেরিয়ে সুস্থ হয়ে আত্মহত্যার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল মেয়েটি। হয়তো ছেলেটি জোড় পূর্বক ওর পাশে না থাকলে এতোদিনে ওর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন হতো।
আজো মনে পরে, সেদিন সকলের সামনে ছেলেটি মেয়েটিকে থাপ্পড় মেরে বলেছিল,
– “তুই মরলে শান্তি পাবি ভাবছোস, তোর কবরে আগুন ধরিয়ে দেবো আমি। পরপুরুষরে পাইয়া আমারে ভালোলাগে না? ভালোবাসছি না তোরে? “
বলে সেদিন টেনে সিচরে কোর্টে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করে ফেললো। মেয়েটির ধর্ষণের কথা আজ অবধি আমরা চারজন ছাড়া আর কেউ জানেনা। ওদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকিতে ছেলেটি আমায় নালিশ করেছিল,
– “ও আমারে এতো কম ভালোবাসে ক্যান জিজ্ঞাসা করতো? আমি ওর জামাই না?”
মেয়েটি বলছিল,
– “দেখো, সারাক্ষণ ওরে নিয়েই বিজি থাকি। তাও এমন করে। প্রেগন্যান্ট হয়েতো চিন্তায় পড়ে গেলাম। ও নিজেইতো ওর বাচ্চার কেয়ার মানতে পারবে না। আমি কাকে রেখে কাকে সময় দেবো বলোতো?”
আশ্চর্য করিয়ে ছেলেটি বলেছিল,
– “তুই আমারে ভালোবাসবি, আমি বাচ্চারে ভালোবাসুম। কিন্তু তুই আমারে কম ভালোবাসবি না বউ।”
এই জীবণে ওদের দুজনের ঝগড়ার একমাত্র কারণ “তুই আমারে কম ভালোবাসতেছিস” কথাটা। আমি দেখেছি, ওরা ঝগড়া লাগলে কখনো কারো থেকে আলাদা হয়ে যায় না, কথা বলা বন্ধ হয় না। শুধু একটি কথা আংশিক বদলে যায়। মিলের সময় একে অপরকে বলে “ভালোবাসি কিন্তু অনেক অনেক” আর ঝগড়ার সময় বলে “ভালোবাসি কিন্তু আগের থেকে কম” আর একে অন্যের উপর রাগ কমলে সবাই সরি বলে মিলে যায়। আর ওরা বলে “ভালোবাসি কিন্তু আগের থেকে বেশি”।
খুব বেশি কাছের মানুষ বলেই আমি এতো গভীরে ওদের জানি। ওদের দুজনকে দেখলে আমার সমস্ত মন খারাপ ভালো হয়ে যায়। যেখানে, ফর্সা-কালো, শিক্ষিত-কম শিক্ষিত, ফোন ওয়েটিং সহ নানাবিধ তুচ্ছ কারণে ব্রেকাপ হয়ে যায়। সেখানে ছেলেটিরতো যথেষ্ট সুযোগ ছিল ওকে ছেড়ে যাবার। সেতো ছাড়েই নি উলটো নিজের পরিবারের কাছে মেয়েটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে আজ ছেলেটির মা তার ছেলের কথায় অবিশ্বাস করলেও ছেলের বউয়ের কথায় কোন কিন্তু পড়ন্তু নেই। মেয়েটি বাবা মা হারানোর পর ছেলেটি কথা দিয়েছিল,
– “এই শূন্যতা সে কোনদিন ওকে বুঝতে দেবে না”।
মাত্র চার মাসের ফেসবুক দিয়ে প্রেমের সম্পর্কে কি শক্ত বাধনেই না বাধা পড়েছিল দুজন। আজতো ওরা এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের বাবা-মা হয়ে গেল। মেয়েটি খুশির সাথে ভয় নিয়ে বললো,
– “আমার মেয়েটার জীবণে আমার মতো ঘটবে নাতো?”
আমি বললাম,
– “তুমি গাধী ছিলা, তাই সাময়িক দুর্ভোগ হয়েছে। এইটারে বুলেট বানিয়ে দেবো। ওকে একটু যত্ন করে জলদি বুঝদার বয়সী করতো।”
নাম রাখবো কি আমাদের এই ফুটফুটে মেয়েটির? “অপরাজিতা” নাকি “মুগ্ধতা”।
ফুট নোটঃ গল্পটা কাল্পনিক ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন না। এটা দুর্বোধ্য-অবিশ্বাস্য কিন্তু বাস্তব গল্প।
১৮/০৪/২০২২, ১০.১২ AM
