গল্পছোট গল্প

সন্নাস সাধন 

প্রাচীন কোন এক মঠের কুটিরে বাস করতেন এক সন্ন্যাসী। এক তরুন শিষ্য নিয়মিত সেবা যত্ন করতো তার। অনেক দিন, অগুনতি বছর নারীদেহ স্পর্শ করেননি তিনি। তরুন শিষ্যটিও সেইমতেই শ্রদ্ধা করে চলেছে তাকে। নিজেও মেনে চলছে সেই সংযম।

কোন একদিন। তীর্থে চলেছেন তারা। অনেকদূরের পথ। যেতে যেতেই এক নদীর পাড়ে এসে দাঁড়ালেন দুজনে। দেখলেন, এক তন্বী যুবতী বসে আছেন নদী পার হবেন বলে। সেদিন ঘাটে মাঝি আসেনি। যুবতী কেঁদে পড়লেন বৃদ্ধ সন্ন্যাসীর পায়ে।

সাঁতার জানিনা, তবু আমায় ওপারে যেতেই হবে আজ। তাকে দেখেই তরুন শিষ্য ছি ছি করে সরে গেল। ও যে নারী, ওকে দেখাও তো নিষেধ তার। বৃদ্ধ সন্ন্যাসী খানিক ভাবলেন। স্মিত হেসে, কাঁধে তুলে নিলেন যুবতীকে। নদী পার করে, মাথা নত করে বিদায় দিলেন। তরুন সন্ন্যাসীর মনে বড় বাঁজলো পুরো ব্যপারটা।

সারাটি পথ সে বৃদ্ধ সন্ন্যাসীকে অভিযোগ করে গেল। তিনি কীভাবে এ কাজটি করতে পারলেন? কেন তিনি নিজেই তার আদর্শ থেকে সরলেন? বৃদ্ধ কোন জবাব দিলেন না। সারাদিন, সারা বিকেল ও সন্ধ্যা তিনি তরুন সন্ন্যাসীর ক্ষোভভরা তিরস্কার শুনে গেলেন।

সন্নাসী রাতে তীর্থে পৌঁছুলেন। দেখলেন, শিষ্য এখনো ব্যাপারটি নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে। তিনি শিষ্যকে তখন পাশে টেনে বসিয়ে বললেন,

– “বাছা, আমি সেই নারীকে পার করে নদী পারেই রেখে এসেছি। আর তুমি এখনো তাকে নিজের মাঝেই বয়ে বেড়াচ্ছো!”

০৩/০১/২০২২ ০৯.২৫ PM

Obinash

শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *