ব্যক্তিগত

সংসদ, বায়োষ্কোপ কিংবা চিড়িয়াখানা

খুব ছোট বেলায় বাবা-মা’র হাত ধরে একবার মিরপুর চিরিয়াখানায় গিয়েছিলাম। সে অনেক আগের কথা। খুব অল্পই মনে আছে। আমি আর আমার ছোট ভাই হেঁটে হেঁটে, কখনো বা দৌড়ে এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় যাচ্ছি আর দেখছি জীব-জন্তু-জানোয়ারদের। খুব সম্ভবত আমাদের ছোট বোনটা অনেক ছোট অর্থাৎ কোলে। হঠাৎ হঠাৎ কান্না-কাটি ছাড়া বিশেষ কিছুই করতে পারে না।

সকালে বের হয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরে, সংসদ ভবন দেখে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেছি আমরা। সে এক স্বপ্নিল দিন। আজো চোখ বুজলে, বায়োস্কোপের মত করে সাদা-কালোয় দেখতে পাই – “আমাদের সোনালি দিন”।


জাপান নিয়ে আরো লেখা পড়ুন –


আমার পরিবার মধ্যবিত্ত সমাজের বাসিন্দা। ভাই-বোন মিলে আমরা খুব দুষ্টামি, মারা-মারি আর কথা কাটা-কাটি করে কাটিয়ে দিতাম দিনের পর দিন। ছোট ভাইটা যখন আমাদের মাঝে এলো, আমরা যেনো একটা পুতুল পেলাম।

ভাই-বোনদের মাঝে একটা গোপন প্রতিযোগিতা ছিলো ওকে নিয়ে খেলা করার, গোসল করানোর, কিভাবে পিট-পিট করে তাকায় আর হাসে সেই নিয়েও ছিলো আমাদের বিস্তর কৌতুহল। এক সময় আমরা সবাই বড় হলাম।

ইউনো চিড়িয়াখানা
ইউনো চিড়িয়াখানা, টোকিও, জাপান

তারপর একদিন আমরাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছি হাজার হাজার মাইল দূরের চেনা-অচেনা দেশ থেকে দেশান্তরে। তারপরও আমরা একজনের দুঃখে কাঁদি, একজনের সুখে হাসি আর বলি,

– “যে আত্নার টানে আমরা এক হয়েছি। হাজার হাজার মাইলের দূরত্ব কি তা ছাড়াতে পারে?” 

বিদেশ-বিভূঁইয়ে অনেক দর্শনিয় স্থানই তো দেখলাম। টোকিওর ইওনোতে অবস্থিত চিড়িয়াখানা দেখতে দেখতে আমি কখন যে সেই ছোট বেলার বায়োস্কোপ দেখতে শুরু করেছিলাম তা নিজেও টের পাইনি।

০৭/০৪/২০২২, ০১.০৫ PM   

Shamim Rony

পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। খুব কাঠখোট্টা বিষয় নিয়ে বসবাস। চেষ্টা করি সমস্যার গভীরে যেয়ে ডুবুরীর মুক্তা আরোহনের মতোই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করে আনতে। জানার আগ্রহ প্রবল। এখনো নিজেকে এই বিশ্ব ভ্রম্মান্ডের ছাত্র বলেই মনে করি। টেকনোলজি ভালোবাসি, সেই সাথে ভ্রমন পিপাসুও বটে। টেক দুনিয়ার হাল-চাল, বিদেশী অনুবাদ ও বিদেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতার রসদ সম্বল করেই কলম ধরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *