গল্পছোট গল্প

মানব – মানবী

ছেলেটা বিবাহিত ছিলো। কিন্তু দীর্ঘ সন্তানহীন বিবাহিত জীবন তাকে ক্লান্ত এবং উৎসাহহীন করে তুলেছিলো জীবন সম্পর্কে। এর মাঝেই চাকরির কারনে দীর্ঘ সময় পাশে স্ত্রীর অনুপস্থিতি তাকে আরো বিবেচনাবোধহীন ও দুঃসাহসী করে তুললো। একদিন ফেসবুক ব্রাউজিং করতে করতে হঠাৎই একটা আইডি কৌতুহলী করে তুললো। এবং আইডি ঘেটে জেনে নিলো পরিচয়। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো। এরপর ভুলে গেলো কয়েকদিনের মধ্যেই রেসপন্স না পেয়ে। তারপর একদিন নোটিফিকেশন পেলো, accepted your friend request সাথে inbox এ একটা মেসেজ, ” do I know you? Probably, I do “. ছেলেটি ভেবেচিন্তে রিপ্লাই দিলো,

– “আপনি আমাকে চেনেন? আমি কি আপনাকে চিনিনা, মানে কথা হয়নি কখনো, দেখাও হয়নি”। ঘন্টাখানেক পর রিপ্লাই এলো,

– “আমিও আপনাকে দেখিনি, কথা বলিনি, কিন্তু আমার ননদের সাথে আপনার বোনের খুব বন্ধুত্ব, আমার সাথেও আপনার মা আর ছোটবোনের খুব ভালো সম্পর্ক। আন্টি অনেক আদর করেন আমায়। সেই সূত্রে আপনার সম্পর্কে আমি অনেক কিছু জানি”।

এভাবের ফেসবুকে চ্যাট শুরু হলো। মেয়েটার স্বামী বিদেশে থাকে। ছেলেটারও স্ত্রীর সাথে দূরত্ব। দু’জনের দু’জনের প্রতি দূর্বলতা তৈরী হতে খুব বেশী সময় লাগলোনা। যদিও পরস্পরের প্রতি এই ভালোলাগা দু’জনেই গোপন রাখলো। একদিন ছেলেটা প্রস্তাব দিলো অবধারিতভাবে,

– “চলুন, দেখা করি”।

– “এই শহরের সবাই আমাকে চেনে, আপনাকেও চেনে। দু’জনকে একসাথে দেখলে কথা ছড়াতে এক মুহূর্ত সময় লাগবেনা”।

ছেলেটি হাসলো,

– “তাতে আমার কিছু যায় আসেনা”।

মেয়েটির গলা কঠোর হলো,

– “আমার যায় আসে, আমি তো রাস্তার বাজারে মেয়েছেলে নই”।

ছেলেটি এমন কঠিন কথায় অবাক হলো, কস্ট পেল, ফোন কেটে দিলো। এরপর মেয়েটা অনেকবার ফোন আর টেক্সট মেসেজ দিলো, ছেলেটি ফোন ছুঁয়েও দেখলোনা।

সপ্তাহখানেক পর ফেসবুকে ছেলেটি প্রত্যাশিত মেসেজটি পেলো ইনবক্সে,

– “স্যরি, বুঝতে পারিনি কস্ট পাবেন এতোটা। কাল দুপুর দু’টায়, কলেজের গেটের সামনে থাকবো”।

ছেলেটি চেক করে দেখলো মেসেজটি ৭ দিনের পুরোনো। আরও মেসেজ এসেছে এর পর, ” আমি আজ এক ঘন্টা দাঁড়িয়েছিলাম কলেজের গেটের সামনে। আপনি আসেননি। আমি এখন থেকে প্রতিদিন ওই একই সময়ে একই জায়গায় ১ ঘন্টা করে দাঁড়িয়ে থাকবো। দেখি কতো দিনে আপনার রাগ পড়ে”।

ছেলেটি হতভম্ব। আসলেই কি তাই?  মেয়েটা গত সাত দিন দাঁড়িয়ে ছিল কলেজ গেটে এক ঘন্টা করে? পরদিন ড্রাইভারকে ঘন্টা তিনেকের জন্য ছুটি দিয়ে নিজেই গাড়ি নিয়ে বের হলো সে। দুপুর দুইটায় কলেজের মেইন গেটের সামনে গাড়ি থামালো।

– “উঠে আসো।”

মেয়েটি গাড়িতে উঠে।

সোজা গাড়ি চালিয়ে শহর থেকে একদম দূরে নদীর পাড়ে নিয়ে থামালো ছেলেটা গাড়ি।

– “কড়া রোদ বাইরে। গাড়িতে এসি ছাড়া আছে, গাড়িতেই বসি আমরা?”

মেয়েটা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।

– “গত সাতদিন আসলেই আমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলে এভাবে? কেন? এটা কি বাড়াবাড়ি না?”

ছেলেটি সহজেই আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসে, মেয়েটিও।

– “তুমি দেখা করতে চেয়েছো। ইচ্ছে পূরন করলাম”।

– “আরও কিছু ইচ্ছে আছে। পূরন করবে?”

কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করে ছেলেটি। চোখে চোখ রেখে বলে মেয়েটি, তার কন্ঠস্বর সিরিয়াস,

– “করবো”।

ছেলেটি মেয়েটির হাতে হাত রাখে, চুলে হাত বুলায়, ঘারের অনাবৃত অংশে হাত দিয়ে সুরসুরি দেয়। মেয়েটির নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসে। ছেলেটির হাত দুঃসাহসী হয় আরো, এবং ঠোটে ঠোট মিলায়। মেয়েটি কোন বাধা দেয়না বরং আরো কাছে আসে, পালটা চুমু খায়। এক মুহুর্তে মানুষের সম্পর্ক বদলায়। তাদের সম্পর্কও বদলে গেলো। ধরা যাক ছেলেটার নাম মানব, আর মেয়েটার নাম মানবী।

ওইদিন দু’জনেই ঘোর লাগা অবস্থায় বাসায় ফিরলো। ছেলেটার মধ্যে কোন অনুশোচনা কিংবা অপরাধবোধ নেই। রাতে ফোনে কথা হলো। মানবী বললো,

– “আপনার সাথে আমার যা হয়েছে ওটা ভুল ছিলো। আমি আর কখনো কোনভাবেই তোমার সাথে যোগাযোগ রাখবো না”

– “As your wish” reply দিলো ছেলেটা।

পরদিন ঘুম থেকে উঠে টেক্সট মেসেজ পেলো,

– “তোমার সাথে জরুরী কথা আছে, ফোন দিও”।

মানব ফোন দিলো।

– “আমার পক্ষে তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব না। আমি জানিনা আমি কি করছি, ভুল করছি অবশ্যই কিন্ত তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবোনা। আমি তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসি মানব।”

বাসা পুরাই ফাকা ছিলো মানবের। এবং মানবী আগেও বহুবার এসেছে এই বাসায়। সেক্স যে এতোটা প্রানবন্ত এবং তৃপ্তিদায়ক হতে পারে তা মানবের ধারনাতে ছিলোনা। এবং দিনের পর দিন তারা নিজেদের শরীরকে নিয়ে খেললো।

– “কাজের বুয়া হয়েও থাকতে রাজী আমি তোমার বাসায়, শুধু তোমাকে দেখার জন্য।”

মানবের বুকের উপর শুয়ে মানবী বললো। মানবের কাছে সবকিছু কেমন রুপকথার মতো মনে হলো। এরপর মানবীর স্বামী দেশে ফিরে এলো হঠাৎ। আর কোন যোগাযোগ হয় নাই মানব-মানবীর মাঝে এরপর। শুধু একটা তথ্য জানা গিয়েছিলো, মানবীর স্বামী এই সম্পর্ক হওয়া নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলে সে এর সত্যতা বেমালুম অস্বীকার করে এবং মানব সম্পর্কে কমেন্ট করে,

– “ও তো একটা বদ্ধ উন্মাদ, পাগল”।

মানব পরবর্তীতে তা জানতে পেরে হেসে ফেলে, আর মনে মনে বলে, “আসলেই আমি একটা ছাগল।” অতঃপর মানব ল্যাপটপ থেকে মানবীর অসংখ্য নগ্ন ছবি ডিলিট করে দেয়। জীবনটা আসলে এক কৌতুহলময় চিত্রনাট্য, যদি পর্যবেক্ষক হিসেবে দেখা হয়।

/০৫/২০২২, ১০.৩০ AM

Kuasha

হয় একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ। আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য। একা থাকা, মুভি দেখা, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা ও বই পড়া আমার নেশা। খুব বিরক্ত লাগে পিছনে কিংবা আমার আড়ালে কেউ কথা বললে। লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে নিজেই কখন যে এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে রুপান্তরিত হয়েছি বুঝিনি। জীবনে অনেক কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুই হতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমি ব্যর্থ একজন মানুষ। আমার ব্যর্থতাতেই আমার সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *