গল্পছোট গল্প

ফায়দা

আমার স্ত্রী স্বর্ণা বুধবার দিন কাজের ছেলে বরকতের হাত ধরে পালিয়ে গেল। যাবার সময় ছোট একটা নোট লিখে গেছে – “তুমি আমাকে যা দিতে পারনি বরকত আমাকে তাই দিয়েছে। ফ্রিজে কয়েক পদের রান্না করে রেখে গেলাম। সপ্তাহ খানেক খেতে পারবে। এরপর কি করবে তা তোমার ব্যাপার। আমি গেলাম। ভাল থেক”। আমি এক্সপোর্ট ইম্পোর্টের ব্যাবসা করি। সারাদিনই দৌড়ের উপর থাকি। বাসায় ফিরি গভীর রাতে। মাঝে মধ্যে বাসায়ও ফেরা হয়না। ফার্মগেটে আমার একটা ছোট অফিস আছে। অফিসের পেছনের রুমে খাট পাতা। রাত বেশি হলে সেখানে গিয়েই এলিয়ে পড়ি। বিজনেসটা দাড় করাতে গিয়ে আমার অবস্থা কেরোসিন।

স্বর্ণা ভেগে গেছে বলে খুব একটা খারাপ লাগল না। বিয়ের পর তেমন কোন সময়ই কাটানো হয়নি স্বর্নার সাথে। আমাদের মধ্যে স্বমী স্ত্রীর কোন টান ছিল না। বাবা’র জোরাজুরিতে বিয়ে করেছিলাম। বিয়ের রাতেই হার্ট এট্যাক করে বাবা মরে যান। সে রাতে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে আর পরের কিছুদিন লাশ দাফন কাফন, গরীব লোক খাওয়ানো, আত্মীয় স্বজনের আনাগোনার মধ্য দিয়ে কেটে গেল। নতুন বউ স্বর্ণার সাথে তেমন কোন কথাই হল না।

বরকত অত্যন্ত সুদর্শন। তার চেহারায় দরিদ্র পরিবারে জন্মানোর কোন ছাপ নেই। অচেনা কেউ দেখলে ভাববে সম্ভ্রান্ত কোন ফ্যামিলি থেকে এসেছে। কথা বার্তায়ও বেশ স্মার্ট। আমার বাবা গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিলেন অনাথ বরকত কে। তখন তার বয়স বড়জোর পাচ কি ছয়। এমন ছেলের প্রতি দুর্বলতা অসম্ভব কিছু নয়। সেখানে বিবাহিত জীবনে পেয়ে আসা অবহেলা স্বর্ণার জন্য আরও ক্যাটালিস্ট হিসাবে কাজ করার কথা।

স্বর্ণা চলে যাবার দুই সপ্তাহ পর রাত করে বাসায় ফিরেছি। দেখলাম বরকত চুলায় রান্না চড়িয়েছে। জিজ্ঞাস করলাম,

– “মেন্যু কি রে?”

পাতিলে চামচ ঘুটতে ঘুটতে বরকত বলল,

– “ঝোল কইরা ঝাল মুরগী। খাইতে ভাই সেই রকম হইছে।”

আমি গোসল সেরে এসে দেখলাম বিছানার উপর ১টা পোটলা আর কয়েক বান্ডিল এক হাজার টাকার নোট পড়ে আছে। পোটলা খুলতেই স্বর্ণের কিছু বালা, গলার হার, আর কানের দুল বেরিয়ে এল। বিয়ের সময় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল স্বর্ণা। বরকতকে ডাকলাম।

– “জ্বি ভাইজান? “

– “ঠিক জায়গায় রেখে আসছিস?”

– “জ্বি ভাই। কাদের বস বলছে দুই তিন দিনের মধ্যেই আপারে বর্ডার দিয়া ইন্ডিয়া চালান কইরা দিব।”

– “ঠিক আছে যা।”

পোটলা আর টাকাগুলো তুলে রাখলাম আমি। জুয়া খেলে সব হারিয়েছি। কাদেরের কাছে স্বর্ণাকে বেচে দিতে সামান্য একটা নাটক সাজাতে হল। এছাড়া উপায় ছিল না। বিজনেসটা টিকত না। গহনাগুলো বেচে যদি একটা ফায়দা করা যায়।

১৮/০৭/২০২২, ১০.০০ AM

Obinash

শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *