ব্যক্তিগত

পাহাড়ি কন্যা

ঝর্না পাহাড়ি কন্যা। দূর পাহাড়ের সুউচ্চ শিখরে তার জন্ম। ঝর্না যেন চন্দন বর্নে রঞ্জিত জ্যোৎস্নার তরল ধারা। একমাত্র ঝর্নাকেই তোমার অপরূপ রূপের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তোমার দোলায়িত শাড়ির আঁচল পাহাড়ের গৈরিক মাটির সোনা রঙে উজ্জ্বল।

মনে হয় যেন তোমার চুলে এবং কানে পাহাড়ি ফুল-মল্লিকার অলংকারে সুশোভিত। অথচ এই তুমিই উষার মতো তপস্বিনী, সংযমী। আচ্ছা সাগরের আহ্বান কি তোমার কানে পৌছায়? কিংবা জুঁই ফুলের মত বৃষ্টির ফোঁটা চাঁদের কিরনে ঝর্নার জলধারায় চুমকীর লহরী হয়ে দোলে কি তোমার আগমনে?

ধূসর ধরনী ঝর্নার প্রতীক্ষায় দিন গোনে। তোমার প্রতিক্ষার। আর আমি তৃষনার্ত এক চাতক তোমার প্রতিক্ষার প্রহর গুনি। অবশেষে তুমি এলে। তোমার উপস্থিতি টের পেলাম তোমার রঙ – রূপ – বর্ন ও গন্ধে। মাতাল লিলুয়া হাওয়া তোমায় ষ্পর্শ করে আমায় ছুয়ে যায়। মনে হয় যেন তোমার দুটি তুলতুলে হাতের ষ্পর্শে মাঠ-প্রান্তর সবুজ শ্যামলে ভরে উঠে।

পাহাড়ি গুহা থেকে লীলায়িত ভঙ্গিমায় ত্বরিত ছুটে আসা হরিণীর মতই ঝর্নার গতি ভঙ্গি। সবুজ শ্যাওলা পড়া পাথরে ঝর্নার জলরাশি যখন ছিটকে পড়ে তখন তাকে সবুজ পান্নার মত মনে হয়। যা শুধু তোমার হাতেই মানায়। ঝর্না যেন সর্গের অমৃত সুধা বয়ে আনে। ঝর্নার চলার ছন্দে কাঁচের চুড়ির মধুর ধ্বনি বেজে উঠে। আর তোমার এলোচুলে শোভা পায় মোতির মত গোল বেলকুঁড়ি। অনন্যা সুন্দরী ঝর্না আমার নয়ন ও মনকে মুগ্ধ করে। ঠিক যেমনটি মুগ্ধ হয়ে উঠে আমার হৃদয় ও মন তোমাকে দেখলে।

প্রিয় নন্দিনী,

হ্যাপি ফার্ষ্ট অ্যানিভার্সারি।

যাকে ভালোবেসেছ বা ভালোবেসেছিলে, সে মানুষটি ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দুজনের ভুল ভুলে গিয়ে একসঙ্গে থাকার অভ্যাসটা ধরে রাখতে চাওয়াই ভালোবাসা। বেলা শেষে সবাই ছেড়ে যায়। তুমি ব্যতিক্রম হইয়ো। ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চেয়ো। আমি উদাস হয়ে শুধু তোমার দিকে তাকিয়ে না হয় কাটিয়ে দেব শত সহশ্র বছর।

মে’র ১৮ তারিখ যে–ই ১৯ হবে, তোমার গালের টোলে একটা টান পড়বে। বুঝবে আমি নিঃশব্দে চিৎকার করছি হ্যাপি ফার্ষ্ট অ্যানিভার্সারি বলে! তোমাকে নিয়ে আমার, আমাকে নিয়ে তোমার অ্যানিভার্সারি মে’র ১৯ তারিখ।

ইতি

তোমার সাহেব

১৯/০৫/২০২২, ০৯.০০ AM

Shamim Rony

পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। খুব কাঠখোট্টা বিষয় নিয়ে বসবাস। চেষ্টা করি সমস্যার গভীরে যেয়ে ডুবুরীর মুক্তা আরোহনের মতোই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করে আনতে। জানার আগ্রহ প্রবল। এখনো নিজেকে এই বিশ্ব ভ্রম্মান্ডের ছাত্র বলেই মনে করি। টেকনোলজি ভালোবাসি, সেই সাথে ভ্রমন পিপাসুও বটে। টেক দুনিয়ার হাল-চাল, বিদেশী অনুবাদ ও বিদেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতার রসদ সম্বল করেই কলম ধরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *