বন্ধুত্বের রকম ফের
জীবন চলার পথে জীবনে বন্ধু নামের একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে যায় মনের অজান্তে। যে সম্পর্ক কখনো লাভ ক্ষতির ভাবনা চিন্তায় তৈরি হয় না। তবে এ কথা ঠিক যে, বন্ধুর গুরুত্ব অপরিসীম। যার কাছে মনের সব কথা আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে খুলে বলা যায়। সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে টেনে তোলা হয় বিপৎসীমা থেকে নিরাপদ স্থানে। বন্ধুর ভুল সিদ্ধান্তের অন্ধকার হতে ফিরিয়ে আলোকিত পথের সন্ধান দেখায় আরেক সত্যিকারের বন্ধু। সেই বিশ্বাসী সম্পর্কের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ব্যক্তিকে বন্ধুত্বের আসনে বসিয়ে তাকে বন্ধু বলা যায়। বন্ধু হতে পারে এক থেকে একাধিক। কিন্তু আত্মার সঙ্গে আত্মার শক্তিশালী বন্ধন কিন্তু একজন বন্ধুর সঙ্গেই।
বন্ধু হতে পারে যে কেউ। বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই। পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সততা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সমবেদনা, মনের অনুভূতি প্রকাশ, ভয়কে জয় করায় নির্ভরশীল সঙ্গী হলো বন্ধু। কখনো কখনো পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজন, অপরিচিত কেউ সামনে এসে দাঁড়ায় বন্ধুর ভূমিকায়। যৌথ উদ্যোগে হাত বাড়ায় শক্ত একটি ভিত্তি গড়ার আশায়। বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব নির্ভরশীল সৎ ও মননশীল চিন্তার ওপর। যার বন্ধু আছে সে কখনো গরিব নয়। কথাটির বিপরীতে যুক্তি দাঁড় করানো বিন্দু সুযোগ নেয়।
জীবন চলার পথে দুই প্রকার বন্ধু সামনে এসে দাঁড়ায়। সৎ বন্ধু ও অসৎ বন্ধু। তবে আজ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিন প্রকার বন্ধুর উদাহরন আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। আসুন এবার এই তিন ধরনের বন্ধু সম্পর্কে জানি।
বন্ধুত্বের প্রথম ধরন –
একটি উদাহরন দেই। ধরা যাক তার নাম মোখলেছুর রহমান (মন্টু)। ফেসবুকে আমাকে এ্যাড দিলো। ম্যাসেজে লিখলো, “ভাই,আপনার লেখা আমার ভালো লাগে। আপনার সেন্স অব হিউমার দারুন। আপনার স্টাইলও আমার খুবই ভালো লাগে ইত্যাদি, ইত্যাদি।
অর্থাৎ আমার হাঁচি, কাশি, থুতু ফেলা (কথার কথা) সবই তার ভালো লাগে। তো, এতো বড় ভক্ত যেহেতু কাছে টেনে নিলাম। ক’দিন পর আমার বৌ আমারে জিজ্ঞাস করলো,
– মন্টু’টা কে?
– কেনো? কি হইছে?
– দেখলাম আমাকে এ্যাড দিছে। মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখতেছি তুমি। ম্যাসেজও দিছে। আমার চোখ নাকি বনলতা সেনের মতো। আহা, তুমি এই কথাটা আমারে কোনোদিন বললানা?
– এক্ষণই ব্লক দাও শালারে।
লাইফ হ্যাকিং আরো বেশ কিছু টিপস্ –
- ফেসবুকিয় লাইফ
- চুমুর চুলচেরা বিশ্লেষণ
- অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন
- বিয়ে: হাইওয়ে টু হেভেন নাকি গো টু হেল
- সফলতায় রাগ ও হাসি ব্যবহারের কৌশল
বন্ধুত্বের দ্বিতীয় ধরন –
আমার এক সিনিয়র কলিগ। সেলারি ক্রেডিট হবার পর প্রথম ক’দিন তিনি পানি খাওয়া ছেড়ে দেন। গাড়িতে ডাব নিয়ে ঘোরেন। আশপাশের চা-ফা তখন তার ভালো লাগেনা। আট’দশ মাইল দুরে চলে যান কফি খেতে। মাসের শেষ দিকে এসে তিনি আমার সাথে ঘনিষ্টতা একটু বাড়িয়ে দেন। মুখ কাঁচুমাচু করে প্রায়ই বলবেন,
– “ইয়ে, আমার কার্ডটা সম্ভবত বাসায় ফেলে এসেছি, হাজার দু’য়েক টাকা হবে?
সবচেয়ে অদ্ভুত যে কাজটা ভদ্রলোক করেন তা হচ্ছে, বৌ অসুস্থ হলেই তাকে শ্বশুরবাড়ী পাঠিয়ে দেন। তার শ্বশুর শ্বাশুড়ী তাদের মেয়ের যথাযথ চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্হ করে মেয়েকে জামাইবাড়ী পাঠান। কথা প্রসঙ্গে একদিন তাকে বলেই ফেললাম,
– ভাই আপনার তো চাঁন কপাল। আপনি ওয়ারেন্টিওয়ালা বউ পেয়েছেন।
ভদ্রলোক খুব রেগে গেলেন। আমার সাথে কথা বন্ধ করে দিলেন এবং বিভিন্নজনের কাছে আমার বেয়াদপির বর্ননা দিতে লাগলেন।
বন্ধুত্বের তৃতীয় ধরন –
কলেজ জীবনের কথা।
সন্ধ্যার আগে আগে দলবল নিয়ে খালি পেটে ঘুরতাম, পকেটে যেদিন একটাকাও থাকতো না সেদিন তীব্রভাবে আমার গরুর মাংস দিয়ে লাল পরোটা খেতে ইচ্ছা করতো। কোনো উপায় না পেলে তখন সুমনকে বলতাম,
– “দোস্ত,মাংস পরোটা খাইতে না পারলে আজকে আমি মারা যাবো”।
গম্ভীর স্বরে সুমন তখন বলতো,
– “আমার সাথে আয়।”
পাড়ার কোনো একটা বোকা টাইপ মুরব্বীর সামনে গিয়ে ইয়া লম্বা সালাম,
– “চাচা, আমরা তো অমুক-তমুক সৃতি সংঘের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নাম দিছি, আমাদের ব্যাট-বল কিছুই নাই। এখন আপনি যদি আমাদের ব্যাপারটা একটু না দেখেন তাইলে ক্যামনে হবে? আচ্ছা ঠিক আছে আপনি আপাতত আমাদেরকে দুইটা ব্যাটের দাম হইলেও দেন। আমরা প্র্যাকটিস’টা শুরু করি।
ব্যাস, পরোটা মাংসের ব্যাবস্হা হয়ে গেলো।
সাদা মনের সৎ বন্ধু কখনো নিজ স্বার্থের দিকে তাকায় না। অসৎ ও বিকৃত মনের বন্ধু বুকে বুক মেলায় ঠিকই। কিন্তু তার এক হাত পিঠের ওপর রাখলেও অন্য হাতে থাকে সুবিধাভোগী অস্ত্র। তার বিশ্বাসঘাতক বন্ধুত্বের অস্ত্র যেকোনো ভালো মনের চিন্তার দীর্ঘ পথ সীমিত করে থামিয়ে দেয়। অনেক সময় পরস্পরের প্রতি ভুল–বোঝাবুঝিতে অটুট বন্ধুত্বে ফাটল ধরার দুঃসময় সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই মুহূর্তে সমসাময়িক খোলামেলা আলোচনা সাপেক্ষে বন্ধুত্বের সুন্দর সম্পর্কে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়।
এই জীবন চলার পথে কেউ আমরা অমর নই। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আমরা নিজ নিজ কাজে কর্মে ব্যস্ত হয়ে যাব সবাই। দূর পরবাসে চলে গেলেও অন্তরে অটুট থেকে যায় যেন আন্তরিক টান। সুখে-দুঃখে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে পাশে থাকুক বিশ্বস্ত হয়ে বন্ধুত্বের হাত। অনন্তকাল ভালোবাসার বন্ধনে মজবুত হয়ে থাকুক আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন। অবিনাশের পাঠক পাঠিকারাও ভালো থাকবেন তাদের বন্ধুদের নিয়ে। তবে আপনাদের ঝুলিতে যদি বন্ধুত্বের আর কোন প্রকার থেকে থাকে তবে তা উদাহরন সহ নিচের কমেন্টে জানাতে একদম ফুলবেন না কিন্তু।
১৬ /০৫/২০২২, ০৯.০০ AM
