বিষাদময় জীবন
সকাল বেলা ২০০ টাকার ফ্লেক্সি ভুল নাম্বারে চলে গেলো। ফোনের অবশিষ্ট ৮ টাকা ১৭ পয়সা বরাদ্দ কল দিলাম ভুল শোধরানোর জন্য। মনে হলো ফোন রিসিভ করল একজন সুকন্ঠীবালিকা। ২০০ টাকার কষ্ট তখন লাখ টাকার লাভে পরিনত হওয়ার উপক্রম। হাই হ্যালো এর পরে শুরুটা আমিই করলাম।
– ভুলে চলে যাওয়া টাকাটা কি ফেরত পাওয়া যাবে?
– ভুলে চলে যাওয়া জিনিসটা ভুলে গেলেই ভাল, তাইনা?
– ভাবছিলাম ভুলেই যাবো, নিয়তি আপনার কাছেই নিয়ে যাবে, জানা ছিলো না (কিঞ্চিৎ ফ্লার্ট)।
– (মৃদু হাসির সাথে) যদি ফেরত না দেই?
আমাকে স্লো বল দিচ্ছে, ছক্কা মারতে হবে।
– তবে আপনাকে ঋণী রাখবো না, প্রতিদিন হাসি শোনানোর পরিবর্তে সুদটা মওকুফ করা যাবে।
– হাসির বিনিময়ে পুরো আসলটা মাফ করা যায় না?
এইবার বাউন্স।
– যদি হাসিটা চোখে দেখতে পেতুম, তবে না হয় আর্জি বিবেচনায় রাখতাম (আমিও কম কিসে?)
– ২০০ টাকার বিনিময়ে চাওয়াটা বেশী হয়ে যাচ্ছে না?
অফ স্টাম্পের বাইরের বল, দেখে শুনে খেলতে হবে।
– একটু আগে দু’শ টাকা ছিলো, হাসিটা শোনার পর থেকে ওটা লাখ টাকা পার হলো বলে (কাভার
ড্রাইভ দিলাম)।
– (হা হা হা) উফফফ, আপনি পারেন ও বটে। বড্ড ফাজিল তো আপনি।
ব্যাটে বলে লেগেছে, ছক্কার সম্ভাবনা।
– মনে হচ্ছে আপনি ব্যাস্ত, পরে কথা বলার জন্য আমার ফোন মেমরী খরচ করে নাম্বারটা সেভ করে
রাখবো, যদি অনুমতি দেন আর কি।
ফাইনাল শট, মিড অফের উপর দিয়ে।
– ও হো, আচ্ছা আমি আসলেই একটু ব্যাস্ত। বাচ্চা দুইটা কাঁদছে। নেন আমার হাজব্যান্ড এর সাথে কথা বলুন। ২০০ টাকার ডিলটা সেই ক্লিয়ার করুক। পরের কাহিনী শুধুই ইতিহাস। এরপর এক মধ্যবয়স্ক বোলারের ঝাঁঝালো কন্ঠে ভেঙ্গে গেলো তরুনের উইকেট। ২০০ টাকার সাথে ৮ টাকা ১৭ পয়সা গচ্ছা যাওয়ার পরে তরুন ফাঁকা চোখে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। আহ, সব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ওদিকে মোবাইল ফাঁকা। জীবন ও ফাঁকা।
১০/০৫/২০২২, ০৯.০০ AM
