লাইফষ্টাইল

বেঁচে থাকার মন্ত্র

জীবন থেকে কে ই বা আশা না করে? আমাদের এক জীবনের গোটাটাই ভরে রয়েছে আশা আর আকাঙ্ক্ষায়। কিন্তু আমরা ক’জনাই বা জানি, কিছু আশা আমাদের জীবনে দুরাশা হয়েই থেকে যাবে। সময় প্রবাহমান। নিজের গতিতে চলতেই থাকে। মানুষ ও সেই সময়ের সাথে ভেসে যায় এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে। পিছনে ফেলে যায় কিছু সুখ, দুঃখ বিজরিত মুহুর্ত। প্রতিদিন আমাদের এই বেঁচে থাকার লড়াই প্রকৃতির সাথে, সমাজের সাথে, পাওয়া না পাওয়া আর মিথ্যা ও সমঝোতার সাথে।

যে মানুষ এই বহুরুপী লড়াই এর কাছে পরাজয় মেনে নেয়, সেই হেরে যায়। হেরে যায় জীবনের কাছে, হেরে যায় নিজের কাছে। জীবনের বাস্তবতা বড় কঠিন। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। একেক সময়, একেক দিকে এঁকে বেঁকে চলে। নদীর স্রোতকে যেমন নিয়ন্ত্রন করা যায়না, প্রবাহমান জীবনের গতিকেও তেমনি নিয়ন্ত্রন করা যায়না। নিজেকে সেই গতিতে মানিয়ে নেয়ার নামই বেঁচে থাকা।

আমরা অনেক সময় নিজের জন্যই কেবল বেঁচে থাকি। কিছুটা স্বার্থপর এর মত। আমি কি চেয়েছি , আমি কি পেয়েছি সেটাই যেন মুখ্য বিষয়। জীবনে বড় হওয়ার জন্য নানা বিষয়ে আশা কিংবা প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। কিন্তু সব বিষয় যে আশা অনুযায়ী চলবে এমন কোনো কথা নেই। একই ভাবে কিছু বিষয়ে প্রত্যাশা করা উচিত নয়। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু প্রত্যাশা, যা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা উচিত।

১. জীবন হওয়া উচিত ন্যায্য

আমরা অনেকেই আশা করি জীবনে নানা বিষয়ে ন্যায্যতার। কিন্তু বাস্তবতা হলো জীবনে ন্যায্যতা পাওয়া যায় না। আপনি যদি ন্যায্যতার আশা করেন তাহলে আশাভঙ্গ হতে হবে। এতে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়া অসম্ভব নয়। তাই সেই আশা বাদ দিতে হবে।

২. সুযোগ হাতে এসে ধরা দেবে

অনেকেরই ধারণা, ভালো সুযোগ একসময় আসবেই। এ জন্য অপেক্ষা করলেই হবে। বাস্তবতা হলো, সুযোগ কখনোই আপনার হাতে এসে ধরা দেবে না। আপনার রেজাল্ট যত ভালোই হোক না কেন, চেষ্টা না করলে চাকরি পাবেন না। একইভাবে আপনি যত সৎ ব্যবসায়ী হন না কেন, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এগিয়ে যেতে পারবেন না।

৩. আপনাকে সবাই পছন্দ করবে

আপনি যতই অসাধারণ মানুষ হন না কেন, সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না। এ বিষয়টি মেনে নিতেই হবে যে, কিছু মানুষ নানা কারণে আপনাকে অপছন্দ করবে। নানা কারণে তাই সবার মন যুগিয়ে চলার চেষ্টা তাই একরকম অসম্ভব বিষয়।

৪. সবাই আমার সঙ্গে একমত হবে

বাস্তব জীবনে নানা মানুষের নানা মত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয়ে আপনি যদি সম্পূর্ণ নিশ্চিত থাকেন তার পরও তার সঙ্গে কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন। আর এ বিষয়টি আপনার আশা করা ঠিক হবে না যে, সবাই আপনার সঙ্গে একমত হবেন।


লাইফ হ্যাকিং আরো বেশ কিছু টিপস্‌ –


৫. মানুষ জানে আমি কী বলতে চাইছি

মানুষ আপনার মনের কথা জানবে, এমন আশা কখনোই করবেন না। কারণ অন্য একজনের মনের খবর রাখার সময় ও সুযোগ সবার থাকে না। এ ক্ষেত্রে মানুষটি আপনার যতই কাছের হোক না কেন।

৬. আমি ব্যর্থ হব

জীবনযুদ্ধে সফল হওয়ার জন্য নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকা চাই। আপনি যদি যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা করেন তাহলে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে ব্যর্থ হওয়ার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

৭. বিষয়টি আমাকে সুখী করবে

আমরা অনেকেই আশা করি ভবিষ্যতে কোনো একটি বিষয় হাতে পেলে আমরা সুখী হব। বাস্তবে ভালো বেতনের চাকরি, চাকরিতে একটি প্রমোশন কিংবা কিছু টাকা-পয়সা পাওয়া মানেই যে আপনি সুখী হবেন তা নয়। সুখের বিষয়টি মূলত মানুষের মনের ভেতরই থাকে। কোনো ভালো সুযোগ-সুবিধা আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় কিংবা জীবন সহজ করতে পারে, তবে তা সুখ আনতে পারে না।

৮. আমি তাকে পরিবর্তন করতে পারব

বিশ্বে আপনি একমাত্র নিজেকেই পরিবর্তন করতে পারবেন। অন্য কাউকে পরিবর্তন করতে চাইলে হতাশ হতে হবে। কারণ সে যদি নিজে থেকে পরিবর্তিত হতে না চায় তাহলে তা অন্য কারো পক্ষে অসম্ভব।

তাই পরিশেষে পঠকদের উদ্দেশ্যে এতুকুই বলবো, নিজের জন্য কিছু পরিমান ইগো থাকা ভালো। ইগো না থাকলে, মানুষের মনের প্রতিনিয়ত গতিবিধি বা পরিবর্তনকে ব্যাল্যান্স করা অসম্ভব হত। হয় মানুষ অমানুষ হত, নয় মহা মানব। আর সেই ইগোটাই হচ্ছে আমাদের বিবেক। যার বিবেক নেই, সে আক্ষরিক অর্থে পশু। মানব চরিত্রের দুটি অতিলৌকিক চরিত্র জীবন ও মৃত্যু। জীবন চায় বেঁচে থাকার স্বাদ নিতে, মৃত্যু চায় জীবনের কে ছিনিয়ে নিতে। এ লড়াই আমরন চলে।

অনেকেই বলে, বেঁচে থাকাই আসল কথা। মানব দেহে শুধু মাত্র প্রান থাকলেই কি তাকে বেঁচে থাকা বলে? আসলেই ভাববার বিষয়। আমার মনে হয়, মানবিক বোধ, স্বনির্ভরতা, আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটা কেই সত্যিকার বেঁচে থাকা বলে। অন্যের জন্য বেঁচে থাকাই সুন্দর। নয় কি? যার বেঁচে থাকায় শুধুই নিজের লাভসিদ্ধি, যার বেঁচে থাকায় অন্যের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনেনা, সেই বেঁচে থাকাকে কি আসলেই বেঁচে থাকা বলে? তাই তো বলি, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজের ও অন্যের জন্যে বাঁচুন আর প্রান খুলে হাসুন। প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, আপনাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরনা কে তা কিন্তু নিচের কমেন্টে জানাতে একদম ভুলবেন না।

১২/০৫/২০২২, ০৯.৩০ AM

Kuasha

হয় একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ। আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য। একা থাকা, মুভি দেখা, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা ও বই পড়া আমার নেশা। খুব বিরক্ত লাগে পিছনে কিংবা আমার আড়ালে কেউ কথা বললে। লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে নিজেই কখন যে এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে রুপান্তরিত হয়েছি বুঝিনি। জীবনে অনেক কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুই হতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমি ব্যর্থ একজন মানুষ। আমার ব্যর্থতাতেই আমার সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *