অভিজ্ঞতা

হাম্বা ঈদের ঘটনাগুলো

এতদিন ফেসবুকে কোরবানির গরু ছুটে যাওয়া নিয়ে অনেক ফানি পোস্ট দেখেছি কিন্তু ভুলেও ভাবিনি এমনটা নিজেদের সাথে ঘটতে পারে। ঘটনা বলি তাহলে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানির উদ্দেশ্যে কেনা হাম্বা আজ সকালে বাসায় এনেছে। কালো কুচকুচে রঙের সে কী ভয়ানক রাগী গরুরে বাবা। চোখ লাল করে সমানে শিং নাচিয়ে লম্ফঝম্প দিয়েই যাচ্ছে। আনার পর থেকে সে শুধু রাগই দেখিয়ে যাচ্ছে। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। আধঘন্টা পর সে এমন কান্ড ঘটিয়েছে যে বাসার সবার আত্মা খাঁচা ছাড়া হবার যোগাড় করে ছেড়েছিল। তাকে বাসার সামনে খালি জায়গায় একটা আম গাছের সাথে সাময়িক ভাবে বেঁধে রাখা হয়েছিল। গরু দেখে আমরা সবাই উপরে চলে এসেছি।

প্রায় আধঘন্টা পর পাশের বাসার আংকেল ডাকাডাকি শুরু করেছে। বারান্দায় দাঁড়াতেই বলল,

– “গরু কই?”

তাকিয়ে দেখি গাছ একাই দাঁড়িয়ে আছে। আংকেল তো কিছুটা রাগী গলায় বলল,

– “গরু কই গেছে খোঁজ আছে কোনো? গরুর খেয়াল রাখা লাগে না?”

ওদিকে আমি নির্বাক হয়ে গেছি। কী বলব কী করব খুঁজে পাই না। তিনিও গরু কই কিছু বলছেন না। ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু ছোট বাচ্চা ছেলে ছিল ওরা হাত তুলে আমাদের গেট দেখিয়ে বলল,

– “ঐ যে গরু”।

আমি আব্বুকে ডেকে নিয়ে দৌড়ে নিচে গিয়ে দেখি গেটের সাথে বাঁধা। পরে তাকে ভেতরে ঢুকিয়ে বেঁধে দিয়েছে। তারপর জানা গেল গরু ছুটে দৌড় দেবার পর ঐ আংকেল সহ আরও ২/৩ জন মিলে গরু ধরেছে। ভাগ্যিস ঐ আংকেল দেখেছিল না হলে কী হত আল্লাহ জানে।

এ তো গেল এবারের ঘটনা। গতবার কী হয়েছিল সেটা তো বলিনি। সেও এক মজার ইতিহাস। ইতিহাসটা পড়েন। এখন তো কোনো কাজ নেই ঈদের ছুটিতেই আছেন। হ্যাঁ যা বলছিলাম, আমাদের ভাই নেই। একমাত্র ভাইটাকে আল্লাহ নিয়ে গেছে তাঁর বেহেশতে আমার জন্মের আগেই। তো ভাই না থাকার কারণে অনেক সময়ই আমাদের ছোটখাটো সমস্যায় পড়তে হয়। এই যেমন কোরবানির সময় আব্বু একা পেরে ওঠে না। আমরা বোনেরা সাহায্য করলেও সেটা কখনো ভাইয়ের অভাব পূরণ করে না। মাঝে মাঝে চাচাত ভাইরা থাকে সাহায্য করে। তবে তারা তো প্রতিবার থাকে না তাই প্রতিবারই কষাই রাখতে হয়। গতবার ৩ জন কষাই রেখেছিল। গরু জবাইর শুরু থেকেই ৪ জন কাজ করছিল।

গ্যারেজে সবাই গল্প করতে করতে কাজ করছে। গরু প্রায় বানানো শেষ এমন সময় কষাইরা একজন আরেকজনের কথায় বেরিয়ে এলো ৪র্থ জনকে তারা চেনে না। ওদিকে আব্বু বলতেছে একে তো আমিও চিনি না। আমি তো ভেবেছি সে আপনাদের সাথে এসেছে। তারা বলে, আমরা তো ওনাকে আনিনি। আমরা তো ভাবছি সে আপনাদের পরিচিত কেউ। দুই দলই অবাক, ওদিকে যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তিনি পুরা শান্ত হয়ে মুখে তালা দিয়ে গোসত বানিয়ে যাচ্ছে। পরে জানা গেল গরু জবাইয়ের সময় উনি গরুর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। কষাইরা তখন আমাদের পরিচিত কেউ ভেবে তাকে গরু ধরতে বলেছিল। আর সেই থেকে তিনি গরুর সাথেই আছে। আব্বু তখন কী বলবে বুঝতে পারছে না। পরে কষাইদের সাথে তাকেও টাকা এবং গোসত দেয়া হল। ঈদের দিন, কাউকে তো অখুশি করা যায় না। আমাদের আসলে এভাবেই চলছে, দিন গুলো। কোরবানির পশুর ছবি দয়া করে কেউ পোস্ট করবেন না। ইসলামের ভাষায় এটাকে “রিয়া” বলা হয়। “রিয়া” মানে প্রকাশ্য বা লোক দেখানো ইবাদত। ইবাদত হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। তাই লোক দেখানো ইবাদত কখনো ইবাদত হিসেবে কবুল হয় না। আল্লাহ সবার ইবাদত কবুল করুক। আমিন। সবাইকে পবিত্র ঈদ – উল – আযহা’র শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারাক। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। পরিবারের সকলের সাথে ঈদ উদযাপন করুন।

১০/০৭/২০২২, ১০.০০ AM

Shamima Zaman

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তৃষ্ণা হলো তার সাথে কথা বলার তৃষ্ণা। কথা আর হয় কই! আমার নৈশব্ধময় সকাল-দুপুর-বিকেল শব্দময় হয়ে রয়, মোবাইলের স্ক্রীনে, কালো অক্ষরে। আমি সেসব নিয়ে ব্লগে অক্ষরের মেলা সাজালাম। একটি করে দিন যায় আর মৃত্যুর দিকে আরও একটি দিন এগিয়ে যাই। হিসেবের খাতায় কী জমা হচ্ছে জানি না। আল্লাহর কাছে শুধু এটুকুই প্রার্থনা ভালো কিছু জমা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *