খেলাধুলা

ইফেক্ট – রিফ্লেক্ট অফ ভালবাসা

এই যে আপু,
হুম, আপনাকেই বলছি!
আচ্ছা আপনি তো একটা ছেলেকে ভালোবাসেন, তাই না! আপনারা ঘুরে বেড়ান, ডেটিং করেন বিভিন্ন রেস্তোরায়, লাঞ্চ করেন, শপিং করেন, মুভি দেখেন। এই সবগুলো খরচ আপনার বয়ফ্রেন্ড বহন করে। কিন্তু আপনি ভালো করেই জানেন, আপনি যেমন স্টুডেন্ট, আপনার বয়ফ্রেন্ডও স্টুডেন্ট। সে এই টাকা গুলো কোথা থেকে এনে খরচ করছে আপনার পিছনে, একবারও তাকে জিজ্ঞেস করেছেনকি? নাকি হাত ভর্তি শপিং আর পেট ভর্তি ফাষ্ট ফুড খেয়ে নেচে নেচে খুশী হয়েই যাচ্ছেন? যখন সব কিছুর খরচ আপনার বয়ফ্রেন্ড নিজের পকেট থেকে দেয়, আপনার বিবেক কি একবারও প্রশ্ন করে না যে সে টাকাগুলো পায় কোথায়?

এই যে আপু,
হ্যাঁ আপনাকেই বলছি!
আপনাকে খুশী করতে সে তার পরিবারকে কষ্টে ফেলছে, তা কি জানেন! তার নিজের ছোট ছোট ইচ্ছাকে আপনার খুশীর জন্য বিলীন করে দিচ্ছে। হয়তো ছেলেটা একটা সুন্দর টি-শার্ট কিনতো, প্যান্ট কিনতো কিংবা এক জোড়া স্যান্ডেল। কিন্তু আপনার সাথে কিছু সুন্দর মূহুর্ত কাটাবে বলে সে টাকাটা জমিয়ে রাখে। নিজের কিংবা পরিবারের কারো জন্য খরচ করে না। আর আপনি সম্পূর্ন নির্বিকার। কেন এমন করতে পারছেন জানেন? কারন, আপনার কাছে তার কোন কেয়ার নেই, মূল্য নেই। যদি কেয়ার থাকতো তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করতেন, বলতেন,

– এই তুমি যে আমায় গিফট দাও, টাকা পাও কোথায়? তুমি নিজেইতো আমার মতো বেকার।

তখন হয়তো সে বলবে,

– আমি টাকা জমিয়েছি তোমার জন্য।

আপনি যদি সত্যিই তাকে ভালোবাসতেন, তাহলে তখন কি করতেন জানেন?

শপিং এ যেতেন ঠিকই, তার গিফটের তোয়াক্কা না করে উল্টো নিজের টাকা দিয়ে তাকে ছোট্ট একটা গিফট কিনে দিতেন আর বলতেন,

– তোমার জমানো টাকা দিয়ে তোমার অব্বু,আম্মুর জন্য গিফট কিনে ঈদে দিও তারা অনেক খুশী হবে।

আপনি নিজে কল্পনাও করতে পারবেন না, সে কতটা খুশী হবে। কারন কি জানেন? কারন, একটা ছেলে চায় তার গার্লফ্রেন্ড/বউ তার থেকে তার পরিবারকে বেশী ভালোবাসুক। এতে তার মধ্যে অনেক বেশী ভালোলাগা কাজ করে। আপনার প্রতি তার ভালবাসা ও সম্মান চক্রবৃদ্ধিহারে বেড়ে যাবে।

আচ্ছা আপনি কখনো কি বলেছেন,

– এই আজ রেস্তোরায় খাবো না, এখানে অনেক টাকা খরচ হবে। তারচেয়ে বরং চলো রাস্তার পাশের মামার দোকানে ফুচকা খাই।

বলেছেন কখনো? কখনো কি ঘুরতে বের হয়ে রিক্সা থেকে নেমে বলেছেন,

– এই তুমি রাখো, আজকের ভাড়াটা আমি দিচ্ছি।

বলেছেন কখনো? এইগুলো কিছুই করলেন না আবার মুখ ভেটকাইয়া বলেন, “আই লাভ ইউ জান!”

আপনি কি ভাবেন সেই সম্পর্ক নিয়ে আপনি অনেক দূর যাবেন? ভুল, অনেক বড় ভুলের মাঝে আছেন আপনি। কোন ছেলেই চায়না তার ভালোবাসার মানুষের টাকায় চলুক কিংবা টিকে থাকুক সম্পর্ক কিন্তু আপনার এমন ছোট ছোট কিছু আগ্রহ, তার প্রতি কিংবা তার পরিবারের প্রতি কেয়ারনেসের কারন ছেলেটাকে আরো বেশী আগ্রহী করে তুলবে আপনাকে ভালোবাসতে, সারাটা জীবন আপনার পাশে থাকতে। ভালোবাসতে ভালো বাসা লাগে না, লাগে এক বুক ভালবাসা। খুব সিম্পল। কি বিশ্বাস হচ্ছে না। আসছে ঈদে ট্রাই করে দেখুন না একবার। মনে রাখবেন, মানুষ ভালোবাসতেই জানে শুধু। ভালোবাসার মানুষকে ভুলতে জানেনা। ভালোবাসাটা হলো ঠিক আমাদের সামনের সমুদ্রস্রোতের মত। বারবার ফিরে আসে, ধাক্কা দিয়ে যায় ভেতরটাকে। সমুদ্র কখনো শুকিয়ে যাবেনা, স্রোতটাও কখনো হারাবেনা।

২৫/০৬/২০২২, ০৯.০০ AM

[সংবিধিবদ্ধ সতর্কিকরন – লেখাটি সব আপুদের উদ্দেশ্যে নয়।]

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *