রাগ অনুরাগের গুরুতত্ব
শিষ্যদের দিকে তাকিয়ে গুরুর প্রশ্ন করলেন,
– “আচ্ছা, কারো ওপর রেগে গেলে আমরা জোরে কথা বলি কেন, বলো তো?”
সবাই কিছুক্ষণ ভাবলো, তারপর এক শিষ্যের উত্তর,
– “আমাদের তখন অস্থির লাগে, এই কারণে।”
মাথা নেড়ে গুরু বললেন,
– “কিন্তু তাই বলে চিৎকার করতে হবে কেন? যে মানুষটার ওপর রাগ করি, সে তো তখন আমাদের পাশেই থাকে। তাই না? এমন তো না যে আস্তে বললে সে শুনতে পাবে না আমাদের কথা।”
আরো কেউ কেউ চেষ্টা করলো। কিন্তু কারোর উত্তরেই মন ভরলো না গুরুর। তিনি বলতে শুরু করলেন,
– “দু’জন মানুষ একে অন্যের ওপর রেগে গেলে তাদের মন দুটো অনেক দূরে সরে যায়। রাগ যত বেশি, মনের দূরত্বও তত বাড়তে থাকে। আর অত দূর থেকে আরেক জনের কাছে কথা পৌঁছানোর জন্য তত জোরে চিৎকার করতে হয়।”
আরো বিদেশী গল্পের অনুবাদ পড়ুন –
একটু থেমে গুরু আবার বলতে শুরু করলেন,
– “আবার দু’জন মানুষ যখন ভালবাসে, তখন কী হয়? তারা নিচু গলায় কথা বলে। তাদের মন দুটো তখন কাছাকাছি চলে আসে বলে। আরো বেশি যখন ভালবাসতে শুরু করে, তাদের মনের দূরত্ব আরো কমে যায়। তখন তাদের ফিসফিসিয়ে কথা বললেই চলে।”
এবার গুরু তার ঠোঁটের কোনে মুচকি হেসে শিষ্যদের বললেন,
– “আর শেষমেষ কী হয়? তাদের আর কথাও বলতে হয় না। একজন আরেকজনের চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলে সে কী বলছে। মন দুটো তখন এক হয়ে যায় যে!”
৩১/০১/২০২২, ১২.২০ AM
[অনুবাদ গল্প, মূল লেখক – পাওলো কোয়েলহো]
