যৌন জীবন ও অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন
পুরুষদের অণ্ডথলীকে বলা হয় শরীরের জানালা। গরমকালে এটি প্রসারিত হয় এবং অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, শীতকালে এটি সংকুচিত হয়ে যায়। যাতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে। অণ্ডথলীর এই সংকোচন-প্রসারন স্বাভাবিক শারীরিক ব্যপার।
শুক্রাণুর সঠিকভাবে কার্যক্ষমতার জন্য তাপমাত্রার এই নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরী। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তেল বেঁচা হকারের কথা আপনাদের সকলেরই কম বেশি কানে আসে। হকার ক্যানভাস করে বলে, “এখন শীতকাল, খেয়াল করলে দেখবেন অন্ডথলী কিছুক্ষণ পরপরই ছোট হয়ে যাচ্ছে। তাইলে বুঝবেন আপনার সমস্যা আছে, ইত্যাদি… ইত্যাদি।”
এরপর সে শুরু করল ছোট পেনিস বড় করা, দীর্ঘ সময় নিয়ে সেক্স করার বিভিন্ন বয়ান, যা শুনে সুস্থ মানুষও নিজেকে অসুস্থ মনে করা শুরু করবে। এটি একটি ইউনিভার্সাল ব্যাপার। বহিবিশ্বে এক জরিপে দেখা গেছে যে, বেশিরভাগ পুরুষ দুটো বিষয় নিয়ে কখনো সন্তুষ্ট নয়।
১. পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ।
২. শারীরিক মিলনের সময়কাল।
আর এই দুটো দুর্বলতাকে কেন্দ্র করেই বিশ্বব্যাপী চলছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।
এর কারণ তিনটা –
১. সঠিক শিক্ষার অভাব।
২. পর্ণ-গ্রাফি এবং এডাল্ট ষ্টোরি অর্থাৎ চটি গল্পে আসক্তি।
৩. আকাশ-কুসুম বিজ্ঞাপন, যা দিয়ে মানুষের মনে ধারণা ঢুকিয়ে দেয় যে, আপনার যা আছে, সেটা স্বাভাবিক না।

প্রথমে আসি পুরুষাঙ্গের সাইজ নিয়ে। বেশিরভাগ পুরুষের স্বাভাবিক পুরুষাঙ্গ ৪ – ৭ ইঞ্চির ভেতর হয় এবং গড়ে ৫.১ ইঞ্চি হয়। এই রেঞ্জের ভেতর সবই স্বাভাবিক সাইজ। জার্নাল অফ ইউরোলজির মতে কোন পুরুষাঙ্গের আকার ৩ ইঞ্চির কম হলে সেটা অস্বাভাবিক। তাই শতকরা নব্বই ভাগ পুরুষের পুরুষাঙ্গ একদম ঠিক রয়েছে।
মাষ্টার্স এবং জন্সনের হিউম্যান সেক্সচুয়াল রেসপন্স নামক একটি গবেষনাধর্মী বইয়ে উল্লেখ করেছেন, মেয়েদের স্বাভাবিক অবস্থায় যোনিপথের দৈর্ঘ্য মাত্র ২.৮ – ৩.১ ইঞ্চি যা শারীরিক মিলনের সময় বৃদ্ধি পেয়ে ৪ – ৪.৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। সুতরাং সেই হিসেবেই সৃষ্টিকর্তা পুরুষাঙ্গ তৈরি করেছেন। ন্যূনতম ৪ ইঞ্চি হলেই সে স্বাভাবিক যৌন মিলন করতে পারবে। তাই চটি বই বা হারবাল ব্যবসায়ীদের ১০ ইঞ্চি পেনিসের কথা ভুলে যান।
আপনি মানুষ, ঘোড়া না। হাতের বাইসেপ মাসল হল মাসকুলার টিস্যু। তাই ব্যায়াম করে বাইসেপ বাড়ানো যায়। কিন্তু মানুষের পেনিস স্পঞ্জি টিস্যু দিয়ে তৈরি। সুতরাং এটা ন্যাচরালি যা হবে, সেটাই থাকবে। অন্য কোনভাবে বাড়ানো যাবে না। তাই তেল মালিশ, ঔষধ কিংবা বড়ি সেবন- এগুলো সব ভুয়া।

এবার আসি যৌনমিলনের সময়কাল নিয়ে। পেন ষ্টেট ইরি’র গবেষকরা বের করেছেন স্বাভাবিক যৌন মিলনের সময়কাল গড়ে ৩ – ১৩ মিনিট। এই মিনিটের শুরুটা হবে পুরষাঙ্গ যোনিতে প্রবেশ করানোর পর থেকে একটানা বিরতিহীন যৌনমিলন।
তবে, এটার সময়কাল অনেকের ক্ষেত্রে বেশিও হতে পারে আবার কম ও হতে পারে। কিন্তু নিয়মিতভাবে দুই মিনিটের কম হলে সেটা একটা সমস্যা যাকে প্রি-ম্যাচিউর ইজাক্যুলেশন বা অকাল বীর্যপাত বলে।
যৌবন ও যৌন জীবন সম্পর্কে অন্যান্য লেখা –
- কামের ফাঁদ
- যৌবনের মৌবনে
- যৌবনের মৌ নিয়ন্ত্রক
- কলকাতার বাঈজী কথন
- ভন্ড প্রেমিকদের প্রশ্ন পত্র ফাঁস
- নায়লা নাঈমঃ আইটেম গার্লের আবির্ভাব
এক্ষেত্রে হারবাল কোম্পানিগুলো চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনাকে ঘন্টার পর ঘণ্টা যৌন মিলনের দিবাস্বপ্ন দেখাবে তাদের ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশে। তাই পুরুষাঙ্গ অনেক বড় হতে হবে কিংবা যৌনমিলন ঘণ্টার পর ঘণ্টা করতে হবে এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
এগুলো শারীরিক মিলনে কোন প্রভাব ফেলেনা, যদি না ছেলে বা মেয়েটি ব্লু-ফিল্ম বা চটি গল্পের ফ্যান্টাসিতে আসক্ত হয়ে অস্বাভাবিক কিছু আশা না করে।

সবচেয়ে বড় কথা, সেক্সের ক্ষেত্রে ছেলেদের জন্য কনফিডেন্স অনেক বেশি জরুরী বিষয়। হারবাল কোম্পানিগুলো মানুষের এই কনফিডেন্স আরো কমিয়ে দিয়ে সুস্থ মানুষকেও অসুস্থ করে তুলে।
আমেরিকার চর্ম, যৌন (সেক্স) ও এলার্জী রোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর গিটেন্স তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, একবার এক লোক এসেছিল সমস্যা নিয়ে। কিছু না। কাউন্সেলিং করে জাস্ট তাকে এমন একটা ভিটামিন ওষুধ লিখে দিয়েছিলাম যার সাথে সে এর আগে কখনো পরিচিত ছিল না। বলেছিলাম, “এটি খান, দেখেন কাজ হবে।”
অপরদিকে তার স্ত্রীকে বলেছিলাম, “স্বামীর সাথে সবসময় এমনভাবে কথা বলবেন, যেন তিনি সত্যিকার হিরো।”
ক’দিন পর সে ঠিকই এসে বলল, কাজ হচ্ছে। আসলে ওষুধটা কাজ করেনি, কাজ করেছে তার আত্মবিশ্বাস। তাই আসুন হারবালের ক্ষতিকারক যৌন ওষুধকে না বলি, স্বাভাবিক সুস্থ জীবন-যাপন করি। প্রাকৃতিকভাবে যা আছে বা যা হবে সেটাই স্বাভাবিক। মনে রাখবেন আপনি আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবেই তৈরি করেছেন।
০৮/০৪/২০২২, ০৮.৩০ PM
