গল্পছোট গল্প

মিঃ এন্ড মিসেস স্মোকার

সিগারেট খেতে মোটেও ভাল্লাগে না রাকিবের। শুধু শুধু ফুসফুস আর হার্টের বারোটা বাজিয়ে লাভ কি? তার উপ্রে দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, সাথে খক খক কাশি।কিন্ত তারপরো এত্তো প্রবলেম সত্বেও রাকিব স্মোক করে। বলতে গেলে একরকম জোর করেই করে। এর পেছনের কারনটা অবশ্য রোমান্টিক ফ্যান্টাসি; সহজ বাংলায় সুখস্বপ্ন! প্রেমের গল্প সিনেমায় রাকিব দেখেছে, বরের সিগ্রেট খাওয়া ছাড়াতে বউ অনেক আহ্লাদী কাজকর্ম করে। সে ব্যাপারটা কল্পনায় অসংখ্যবার রিহার্সেলও করেছে। 

বাসর রাতে রাকিব বউ এর সামনে একটা সিগ্রেট ধরাবে। বউ ভীষন অবাক হয়ে যাবে,

– ‘ও মাই গড! রাকিব তুমি সিগারেট খাও?’ 

রাকিব চোখমুখ শক্ত করে উদাস গলায় বলবে,

– ‘হু খাই, তো?’ 

– ‘আজকে থেকে আর খাবা না, তোমাকে আমার দিব্যি!’ বউ তার হাত ধরে বলবে। 

রাকিব কোনো কথা বলবে না।হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সিগ্রেটে বড়সড় একটা টান দিবে। এতো সহজে রাজি হয়ে গেলে তো আর মজাই থাকলো না। 

এহেন কার্যকলাপে বউ অনেক কষ্ট পাবে। কাঁদো কাঁদো গলায় বলবে,

– ‘বুঝছি তো, আমার চেয়ে তোমার কাছে ঐ ফালতু সিগারেটই বেশি বড়। তারমানে তুমি আমায় মোটেও ভালোবাসো না!’ 

দুই একদিন পর বউ অবশ্য ইমোশনাল রাস্তা বাদ দিয়ে টেকনিক্যাল সিস্টেমে কাজ শুরু করবে। রাতে রাকিব যখন আদর করতে যাবে তখন বউ মুচকি হেসে বলবে,

– ‘উহু! যতক্ষন তোমার মুখে সিগ্রেটের গন্ধ থাকবে ততক্ষন আমাকে কিস করতে পারবা না।’ 

তারপর সাথে লোভও দিবে,

– ‘শুনো, যেদিন তুমি সারাদিন সিগ্রেট না খেয়ে থাকতে পারবা সেদিন তোমাকে স্পেশাল আদর দিবো!’

উফস! ভাবতেই রাকিব আবেগী হয়ে পড়ে। সেই দিনগুলোর কথা ভেবে কষ্ট করে হলেও সিগারেটে টান দেয়। নতুন বউকে এতোটুকু রোমান্টিসিজমের সুযোগ না দেয়া অন্যায় হবে। সে জানে, এই টাইপের মান অভিমানে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। এইপর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই ছিলো কিন্তু ঝামেলা অন্যখানে। রাকিব যে এতো বড় হয়ে যাচ্ছে তা যদি বাবা মার চোখে পড়তো! বিয়ে দেয়ার নামই যে নিচ্ছে না তারা। এদিকে নিয়মিত সিগ্রেট খেতে খেতে তার বেশ নেশা হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারতেছে কিছুদিন পর স্মোক ছেড়ে দেয়া বিরাট কস্ট হয়ে যাবে। 

তারপর আরো দুই বছর পর এলো সেই শুভদিন। মেয়েটা দেখতে একদম ডল পুতুলের মতন! কি ভীষন মায়া মায়া চেহারা। দেখেই বুঝা যায় মনটা দারুন নরম। একটু চোখ গরম করে কথা বললেই যেন কান্না শুরু করে দিবে। নাহ, রাকিব এই মেয়েকে বেশি কষ্ট দিতে পারবে না। কয়েকবার কাঁদো কাঁদো হয়ে রিকুয়েস্ট করলেই সিগ্রেট ছেড়ে দিবে। স্বপ্নের বাসর রাত।ফুল দিয়ে সাজানো বিছানায় তার ডল পুতুল চুপচাপ বসে আছে। রাকিব ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় গিয়ে দাড়ালো। এখান থেকে রাস্তার গাড়ি চলাচল বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। রাকিব পকেট থেকে একটা বেনসন বের করলো; পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন ধরানোর কথা। এমন সময় পিঠে আলতো টোকা। ঘুরে দাড়াতেই দেখতে পেল তার নিস্পাপ চেহারার বেবিডলের মতন বউটা সুন্দর লাল ঠোটে একটা গোল্ডলিফ সিগারেট চেপে ধরে দাড়িয়ে আছে। মেয়েটা রাকিবের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বললো, – ‘এক্সকিউজ মি! আপনার কাছে লাইটার হবে?’ 

০০/০০/২০২২, ১২.৪৮ PM

Obinash

শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *