মা দিবসে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা
মা আমাদের অসম্ভব আবেগময় এবং সবথেকে দূর্বলতার একটা জায়গা। এই পরম নির্ভরতার জায়গাটায় আমাদের মায়েরা কোথাও কোথাও চরম ভাবে অবহেলিত। মা কাপড় ধুয়ে দাও, মা ঘড়ি পাইনা, খাবারে লবন বেশী কেন, মা আজকে কি রান্না কএছ, মা আমার রুমটা গুছিয়ে দিতে হবে। এই কাজগুলা যে মা করে দিচ্ছে আমাদের অনেকের কাছে এটা স্পেশাল কিছু না। এই কাজগুলোই যেন মায়ের একক দায়িত্ব।
বাবারা টায়ার্ড হয়, কিন্তু মায়েরা না। বাবাদের ছুটি আছে তা সরকারী হোক কিংবা বেসরকারী। কিন্তু মায়েদের ছুটি নেই। নেই কোন দিবস। মায়েরা কাজ করে, সন্তান লালন পালন করে, সংসার সামাল দিয়ে ঘরের বয়ষ্ক ব্যক্তিটির খেয়াল রাখে এ যেন ২৪ ঘন্টার দিন রাত চাকুরির একমাত্র ব্যক্তি মা।
মা মানেই সব কিছু চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে। মা মানেই কোন কিছুতে না করা যাবে না। মা মানেই একশ দুই ডিগ্রি জ্বর নিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াবে। কোন কারনে বিছানায় জ্বর নিয়ে পরে থাকলেই সে আর অন্য মায়েরদের মতন ভালো না। আমরা সকলে তখন তাকে বিচার করা শুরু করি। কেন?
মা হওয়া মানেই তার আলাদা পছন্দ-অপছন্দ বা নিজের কোন প্রায়োরিটি থাকতে নেই। থাকলেই সারা দুনিয়া বসে আছে তাকে জাজ করার জন্য। মায়ের আবার নিজের কি প্রায়োরিটি? ওটা তো বাচ্চারা বড় হয়ে মাকে দিবে। তাই নয় কি?
কিন্তু এই বাচ্চারাই বড় হয়ে যখন জীবনের কোন ঝামেলার মুখোমুখি হয় মা জিজ্ঞাস করলে ‘ওয়ার্ক লাইফ পলিটিক্স মা, তুমি এগুলা বুঝবা না’ বলেই দায়সারা সন্তানগুলো আসলেই মাকে কোনদিন বুঝতেই পারে না। শুধু তাই না বেশিরভাগ সময়ি ভাইবটা এমন যেন মা কিছু বুঝবেনা। দূর মা এগুলা শুনে কি করবা। অথচ সকল সন্তানের নির্ভরতার স্থান কিন্তু মা’য়ের আঁচল।
পৃথিবীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সাথে অবহেলিত শব্দটা মা। পৃথিবীর সব মাকে মা দিবসের শুভেচ্ছার পাশাপাশি মায়েদের উচিত, একটু নিজেদেরকে বদলানো। বাচ্চাগুলাকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন, স্বাবলম্বী বানান যাতে নিজের কাজের পাশাপাশি আপনার কাজটাও করতে শেখে। শুধু আপনার হাতে খাওয়া না আপনাকেও খাইয়ে দিতে শেখে। মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্ত আর সমস্যাগুলোর আলোচনা যাতে আপনার সাথে করে। যাতে মনে করে আমার মায়ের উপদেশই সেরা উপদেশ। আমার মা দূর্বল মানুষ নয় বরং শক্ত দুনিয়া আর এই দুনিয়ার সব ঝামেলাগুলো বুঝে। ডিল করতে জানে।
আমার আম্মা একটা কথা বলেন প্রায়ই, সেটা হল বাচ্চার মাকে নাকি বাঘও ভয় পায়। সন্তান জন্ম দেয়ার পর মেয়েরা শারীরিক মানসিক ভাবে এত শক্তিশালী হয় যে প্রকৃতিও তার কাছে হার মানে। সত্যিই তাই। পৃথিবীতে যদি মিরাকল বলে কিছু থেকে থাকে তা হল মাতৃত্ব। জন্ম তো দেয়াই যায়, মা হয়ে উঠাতে পারে ক’জনা। পৃথিবীর সব নারী যারা শুধু জননী না, মা হয়ে উঠেছেন, তাদেরকে অবিনাশের পক্ষ থেকে মা দিবসের শ্রদ্ধা। কারণ, জগতে মায়ের অসাধ্য কিছুই নেই।
০৮/০৫/২০২২, ০৯.৪০ PM
