অভিজ্ঞতা

ফেবু রঙ্গ

হিমালয় থেকে সিদ্ধ হয়ে আসা মহাপুরুষ পন্ডিত শুক্লাচার্য বলেন, ‘মোহ, মায়া, মিথ্যা ও ভান-এই চার নিয়েই ফেসবুক।’ বাসায় বসে বসে পিৎজাহাটে চেক ইন দেয়া বা কারিনা কাপুরের ছবি থেকে কানের দুল ক্রপ করে কেটে, ‘ফ্রান্স মাই নিউ ইয়ারিং’ লিখে পোস্ট করা তো আজকাল কমন ব্যাপার। স্ট্যাটাস ইনবক্স মিলায়া এরকম ভাবেই ফেসবুকে চলে অহরহ মিথ্যা। তারই আরো কিছু উদাহরন দেখি চলুন।

কেস স্টাডি – ১ 
আমার এক ফ্রেন্ড পাঁচবোন দুই ভাই। এছাড়াও খালাতো, ফুফাতো, চাচাতো ইত্যাদি সবধরনের কাজিন মিলায়া তার বোনের সংখ্যা দেড়শো প্লাস। এই ছেলে ফেসবুকে মেয়েদের সাথে ঘনিস্ঠ হওয়ার জন্য প্রথমেই ম্যাসেজ দেয়, ‘আপু আমার সেই ছোট্টবেলা থেকেই একটা বোনের ভীষন শখ! কিন্তু দুভার্গ্যজনক ভাবে আমার কোন বোন নেই। আপনি আমার বোন হবেন, প্লিজ!
পরিশিষ্ট – আমি ফ্রেন্ডরে প্রশ্ন করলাম,

– ‘কি রে, সবাই জিএফ বানাইতে চায় আর তুই বোন! কাহিনী কি?’
ফ্রেন্ড তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,
– ‘আরে ধুররর! প্রথমেই লাইন মারতে গেলে ঝামেলা, তারচে’ আগে আপু বানায়ে ক্লোজ হই। আর জানিসই তো আজকাল কাজিনদের মধ্যে অহরহ প্রেম হচ্ছে আর ফেসবুকের বোন তো ‘বহত সিম্পল বাত!’ 

কেস স্টাডি – ২ 
তখন প্রথম প্রথম ফেসবুক আইডি খুলসিলাম; এক মেয়ের সাথে চ্যাটিং হইতো মাঝে মাঝে। ঐ মেয়েরে সকাল দুপুর রাতে যখনই জিজ্ঞেস করতাম,
– ‘কি খাইছো?’ 
সে কোন চিন্তাভাবনা ছাড়াই উত্তর দিতো,
– ‘পোলাও, ইলিশ মাছ ভাজা, গরুর মাংসের কালো ভুনা, খাসির রেজালা, মুরগীর রোস্ট, চিংড়ির কাটলেট, দই, বোরহানী ইত্যাদী ইত্যাদী! 
পরিশিষ্ট – ব্লক খাওয়ার আগে মেয়েটারে যাস্ট ম্যাসেজ দিতে পেরেছিলাম, ‘তুমি নিশ্চয় কোন হোটেলের বাবুর্চি, রাইট?’ 

কেস স্টাডি – ৩ 
আমার এক ফ্রেন্ডের বদ্ধমুল ধারনা হইলো রবীন্দ্রনাথ বা জীবনানন্দরা সব সেই মাপের গাধা ছিলো। নইলে কেউ কস্ট করে কবিতা লিখে? এই টাইপের কবিতা তো গুগলে হাজার হাজার আছে। তো এই ফ্রেন্ডই প্রেমে পড়ে গেল এক কবিনীর। যে মেয়ে নিয়মিত কবিতা পড়ে এবং নিজে লিখে পোস্টও করে। আমার ফ্রেন্ড এই কবিনী’রে পটানোর অংশ হিসাবে ইনবক্সে নিজেরে বিরাট কাব্যপ্রেমি হিসাবে জাহির করলো। অতঃপর মেয়েটার এক প্রশ্নের উত্তরে বললো,

– ‘আমার ফেভরিট কবি হুমায়ুন আহমেদ। তার ‘আনন্দ বেদনার কাব্য’ বইটা আমি সতেরো বার পড়ছি! বইএর সবগুলো কবিতারই ছন্দ এবং অন্তমিলের ব্যাবহার যাস্ট অসাধারন!’ 

পরিশিষ্ট – ছ্যাকা ট্যাকা খেয়ে বন্ধু এখন হালকা পাতলা কবিতা পড়া শুরু করছে। সেদিন আমারে বললো ফেসবুকে এক লোকের কবিতা নাকি তার অন্নেক ভাল্লাগে। আমি জানতে চাইলাম,
– ‘কে? রুদ্র গোস্বামী না নির্মলেন্দু গুণ?’
– ‘উহু এরা না। বন্ধু উত্তর দিলো, উনার নাম হইলো গিয়ে, ‘ভালোবাসার শেষ্ঠ পংক্তিমালা’

কেস ষ্টাডি – ৪
বেশ কয়েকদিন আগের কথা। এক মেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে –
– ‘ফাইনালি লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও গট অসকার! আই এম সোওও হ্যাপি!’
এই স্ট্যাটাসে আরেক মেয়ে কমেন্ট করেছে, ইয়াপ। আমিও অন্নেক খুশি! কিছুক্ষন পরে এই দুই মেয়ের ইনবক্সে চ্যাটিং হচ্ছে,
– আচ্ছা আপু লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও কে?
– কি জানি! ফুটবল খেলে মেবি! আই ডোন্ট নো। 
– কিন্তু আপনি যে মাত্র স্ট্যাটাস দিলেন? 
– আরে ধুররর! বাদ দাও তো। সাড়ে আটটা বেজে গেছে, কিরনমালা শুরু হবে এখুনি। আমি গেলাম। 
উপসংহার – এই স্ট্যাটাসটা লিখতেছি এমন সময় ম্যাসেন্জারে টুং করে শব্দ হলো। এক স্যার ম্যাসেজ দিছে,
– কি করো? 
– এইতো ম্যাথ করি। 
– কোন অধ্যায়?
আমি ল্যাপটপে চলমান মুভিতে এমা ওয়াটসনের চোখে চোখ রেখে এন্সার দিলাম, ‘লিনিয়ার প্রোগ্রামিং’! 

১১/০৬/২০২২, ১০.০০ PM

Kuasha

হয় একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ। আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য। একা থাকা, মুভি দেখা, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা ও বই পড়া আমার নেশা। খুব বিরক্ত লাগে পিছনে কিংবা আমার আড়ালে কেউ কথা বললে। লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে নিজেই কখন যে এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে রুপান্তরিত হয়েছি বুঝিনি। জীবনে অনেক কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুই হতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমি ব্যর্থ একজন মানুষ। আমার ব্যর্থতাতেই আমার সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *