অনুবাদ গল্পগল্প

নিহির

চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। এটা প্রতিদিন ভাবতাম। কিন্তু আজকে কার্যকর করে ফেললাম। প্রায় তিনবছর এক অফিসে আমি কিভাবে টিকেছি সেটা একটা বিস্ময় বটে। অবশ্য ওরা কেউ বুঝতে পারেনি আমি কে? তাই টিকেছি। অফিসে আমার কোন ঠিকানা দেয়া ছিলোনা। আমার কোন সার্টিফিকেট ও নাই। বাড়ির ঠিকানা থেকে শুরু করে গ্রাম-ডাকঘর-পোষ্টঅফিসের সকল ঠিকানা দুনম্বরী দেয়া ছিল। কেউ ধরতে পারেনি।

একদিন এক কলিগ আমার বাসার ঠিকানা চাওয়ার পর থেকে মনে উঁকি দিচ্ছিল চিন্তাটা। আমি হয়ত ধরা পড়তে শুরু করেছি। ওরা হয়ত আমাকে সন্দেহ করতে শুরু করেছে। তাই সন্দেহ বেড়ে যাবার আগেই আমি ছেড়ে দিলাম। নতুন কোন একটা অফিস খুঁজে নিতে হবে। সেখানে চলবে আমার আসল কাজ। আসলে কাজের জন্য আমি যেকোন দিন যে কোন অফিস ছেড়ে দিতে পারি। এটাই আমার জীবনের লক্ষ। নাহ ভুল বলেছি। এটাই আমার পুরাতন লক্ষ ছিল। এখনো আছে। আমি নিহির।


আরো বিদেশী গল্পের অনুবাদ পড়ুন –


নিহির কোন নাম নয়। এটা একটা পদবী। প্রতি একশো বছর পর পর এই গ্রহে আমাদের নতুন করে বিভাজন ঘটে। আমাদের দায়িত্ব হল পৃথিবীর প্রতিটি এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব বিস্তার করা। বহু প্রাচীন কালে প্রথম নিহির এই গ্রহে স্থান করে নেয়। তখন থেকে মানুষের মত করেই মিশে আছি আমরা। প্রতি একশো বছর পর পর গায়েব হয়ে যাই। বিভাজিত হই। খানিক পরেই আমার শরীর দু’টুকরো হয়ে দুজন নিহির বেরুবে।

একজন নতুন একটা কাজ নিয়ে থেকে যাবে এ শহরে। আরেকজন চলে যাবে অন্য কোন এলাকায়। ঠিক যেভাবে আমার নিজের ও উৎপত্তি ঘটেছিল পুর্বজ নিহির এর শরীর থেকে। সে এক মহা জটিল প্রক্রিয়া। এসব কথা কেন বলছি জানেন? বিভাজনের আগে আমাকে যেকোন একজন মানুষকে খাবারের মত করে গ্রহণ করতে হবে। বুঝতেই তো পারছেন – পুরো একশো বছর না খেয়ে ছিলাম আমি।

১১/০৪/২০২২, ১১.০৮ PM

[বিদেশী গল্প হইতে অনূদিত।]

Kuasha

হয় একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ। আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য। একা থাকা, মুভি দেখা, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা ও বই পড়া আমার নেশা। খুব বিরক্ত লাগে পিছনে কিংবা আমার আড়ালে কেউ কথা বললে। লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে নিজেই কখন যে এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে রুপান্তরিত হয়েছি বুঝিনি। জীবনে অনেক কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুই হতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমি ব্যর্থ একজন মানুষ। আমার ব্যর্থতাতেই আমার সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *