নাম নামা
“এই ছেলেটা, ভেলভেলেটা
নাম কিরে তোর ঘন্টা,
দুত্তুরি ছাই, সকাল বেলা
বিগরে দিলি মনটা।”
আরবী নাম রাখতে গিয়ে বাঙালি যে মাঝে মাঝে কী হাস্যকর সব কাণ্ড করে ফেলে। তারই কিছু নমুনা নিচে তুলে ধরলাম আপনাদের কাছে।
আবু তাহের – শব্দের অর্থ হচ্ছে তাহেরের বাবা। সৌদি আরবে যারা আব্বুকে সম্মান করে এবং নাম ধরে ডাকতে চায় না, তারা আব্বুকে মাঝে মাঝে “আবু মাসুম” বলে ডাকে।
বাংলাতে যেমন “মাসুমের বাপ” বলে, অনেকটা তেমন। এরকম “আবুল কাশেম” শব্দের অর্থও কাশেমের বাবা। বাচ্চার জন্মের সময়েই আবু বা আবুল দিয়ে নাম রাখাটা তাই বেশ হাস্যকর।
একই কাহিনী মেয়েদের ক্ষেত্রেও ঘটে। এখানে অনেকেই মেয়ে সন্তানের জন্মের সময়েই নাম রেখে দেয়ে “উম্মে কুলসুম” অথবা “উম্মে হাফসা” কিন্তু এগুলোর মানে হচ্ছে যথাক্রমে কুলসুমের মা অথবা হাফসার মা। বাচ্চা হবার আগেই এগুলো কারো নাম হবার তো কথা না।
অনেকের নাম হয় তরিকুল ইসলাম। তাদের কেউ কেউ নিজের পরিচয় দেন “তরিক মিয়া” নামে। “তরিকুল ইসলাম” নামের অর্থ “শান্তির রাস্তা” হলেও “তরিক মিয়া” শব্দের অর্থ হচ্ছে “একশো রাস্তা”। শুনে সৌদিরা হেসেই বাঁচে না।
মেয়েদের নাম “রিয়া” শুনলে মনে হয় তাদের হাসি মাত্রা ছাড়ায়। কারণ, পায়ুপথ থেকে বের হওয়া বাতাসকে “রিয়া” বলে। আরেকটা বেশ মজার নাম বলে শেষ করছি। নামটা হচ্ছে “তাসফিয়া” অথবা “তাসপিয়া”।
বাংলাতে কখনো কোনো হকার বা দোকানদারকে দেখেছেন, যারা “এদিকে আসেন, একদম সস্তা, একদম সস্তা” বলে আপনার কান খেয়ে ফেলেছে? আরবীতে দোকানদাররা এমন “তাস পিয়া, তাস পিয়া” বলে আপনাকে দোকানের ভেতর ঢোকাতে চাইবে। কারণ, এটার অর্থ, “চরম সস্তা”।
০৭/০৩/২০২২, ০৫.৫০ PM
