লাইফষ্টাইল

তারুন্যের প্রেম

পৃথিবীতে প্রেমে পড়েনি – এমন কেউ কি আছে? নেই। ভিখারি থেকে রাজার কুমার – প্রেমে পড়ে সবাই। বৃটেনের রাজা চার্লস তো সিংহাসন ও ত্যাগ করতে বসেছিলেন এই প্রেমের কারনে। প্রেম সত্য, চিরায়ত, বর্নিল, ষ্পর্শের শিহরনে এক মাতাল আবেগ।

বেশিরভাগ মানুষের জীবনে প্রেম আসে একাধিক বার, তবে প্রতিটি প্রেম তার নিজস্ব রঙ – রূপ – গন্ধে আলাদা। প্রথম প্রেম তো আরো বেশি রোমাঞ্চকর, বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের ন্যায়। কি তার উত্তেজনা – উদ্দামতা। মনপ্রাণ উজাড় করা তীব্র মাদক ভালোবাসা।

কিন্তু এই ভালোবাসার মানুষটি যখন তীব্র আঘাত করে, ছেড়ে চলে যায়, যদি করে অনাদর আর অবহেলা। নিজেকে কেমন অসহায় আর দিশেহারা মনে হয় তাই না? ইচ্ছে করে তোলপাড় করে দেই সভ্যতার এই সব সার্থপরতা। বিশেষ করে উঠতি বয়সে যখন প্রিয়জন হঠাৎ অন্য রকম হয়ে যায়, বদলে যায় খুব চেনা মানুষটি, সহ্য কি হয়?

কিন্তু, সহ্য করে নিতে হয়। প্রেম যেমন সত্য, বিচ্ছেদ তেমনই বাস্তব। বাস্তবের মুখোমুখি না দাঁড়িয়ে ভেঙে পড়লে তো আর জীবন চলে না। প্রেমের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে বুকের ভেতর যে তীব্র ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা সময় বদলের সাথে সাথে দ্রুত উধাউ হতে থাকে।

মানসিক শক্তি প্রয়োগে শুধু প্রথম ধাক্কাটা সামলাতে একটু বেগ পেতে হয়। ব্যর্থ প্রেমের ব্যাথা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে এটা তেমনি এক প্রেসক্রিপশন।

#ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসরঃ নিজেকে এই সময় দারুন ভাবে ব্যস্ত রাখতে হবে বিভিন্ন রকম সৃজনশীল কাজে। খেলাধুলা, আড্ডা, গল্পের বই পড়া, বিখ্যাত সব সিনেমা দেখা এ ক্ষেত্রে ভীষণ সহায়ক।

#পরাজিত নই আমিঃ পরাজিতরাই শুধু পেছনে ফিরে তাকায়। সুতরাং স্মৃতি বিজড়িত মনকে পাত্তা দেয়া একদম বারণ। দু’জন একত্রে যেসব জায়গায় বেড়ানো, রেষ্টুরেন্টে বসা হয়েছে সেখানে এ সময় মোটেও যাওয়া চলবে না। সার্থপর সঙ্গীটির প্রিয় কোন গান কিংবা কবিতা – এ জাতীয় সব কিছু থেকে নিজেকে কিছুদিনের জন্য দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

#তুমি রয়েছো সিন্ধু পাড়েঃ তার পছন্দের পোষাক, পার্ফিউম কিংবা খাবার কয়েকটা দিনের জন্য গ্রহন না করাটাই উত্তম। বিশেষ করে ডায়েরী, চিঠি পত্র, মুঠো ফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে প্রাপ্ত সকল প্রকার ক্ষুদে বার্তা অথবা প্রিজনের সাথে যুগলবন্দী ছবি কিংবা ভিডিও বার বার না দেখে স্থায়ী ভাবে দূরে সরিয়ে ফেলাটাই ভীষন জরুরী।


লাইফ হ্যাকিং আরো বেশ কিছু টিপস্‌ –


#আমি ব্যর্থ হইনিঃ প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার কাছে গিয়ে একবারের জন্য ও বলা যাবে না যে, “তোমাকে ছাড়া আমার জীবন বৃথা।” কিংবা “আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।” নিজের জীবনটা কি এতই সস্তা? নিজের আত্নসম্মানবোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

#নয়ন পায় না তারে দেখিতেঃ ওকে এক নজর দেখা বা একটু ফোনে কথা বলার ইচ্ছে হলে কঠোরভাবে তা দমন করতে হবে। প্রয়োজনে কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে কিংবা নিজেই নিজের সাথে বাজি ধরতে হবে – আর কোন যোগাযোগ নয়।

#দেবু বাবুঃ ‘দেবদাস’ হয়ে দাঁড়ি – গোফ রেখে দেয়াটা কি এ যুগে মানায়? তার সার্থপরতার জন্যে কেন নিজেকে কষ্ট দেয়া? ভেঙে পড়া? বরং নিজেকে সর্বদা সতেজ ও প্রফুল্ল রাখতে হলে নিজের প্রতি নিজের আরো বেশি বেশি যত্ন নিতে হবে। ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া, পরিপাটি পোশাক পরা, আড্ডা-বেড়ানো সব কিছু ঠিক রাখতে হবে। আরো বেশি ষ্মার্ট হয়ে তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে নিজের যোগ্যতা। মনে রাখবে, যোগ্যরা স্থান করে নেয়, আর অযোগ্যরা হারিয়ে যায়।

#প্রেমে পড়া বারনঃ ‘আর প্রেম নয়’ কিংবা ‘নতুন প্রেমের জন্য হন্যে হয়ে খোঁজা’ – দু’টোর কোনটাই ঠিক নয়। দেখা যাবে জীবন চলার পথে নিজের অজান্তেই টুক করে মনের দরোজায় কোন এক এলোকেশি কিশোরী কিংবা কোন এক নাম না জানা চঞ্চল যুবক কড়া নাড়ছে।

মনে রাখতে হবে, সেই সার্থপর-পুরোন প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার ওপর প্রতিশোধ নেয়ার শ্রেষ্ঠ উপায় তাকে ভুলে যাওয়া। তুমি যখন জীবন চলার পথে সাফল্য লাভ করবে, উন্নতির শিখরে আরোহন করতে থাকবে ঠিক তখন কোন এক অপ্রস্তুত বিকেলে তাকে দেখে মনে হবে – “এর জন্যে আমি এতো পাগল ছিলাম! কি করে কে জানে?” পুরনো সব ঘটনা হাস্যকর মনে হবে।

আর ঠিক সেই দিনই হবে জীবনযুদ্ধে সত্যিকার অর্থে জেতা। কারন, দিন শেষে সবাই তো চায় জয়ী হতে, নয় কি?

০২/০৩/২০২২, ০৫.৫০ PM

Obinash

শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *