অনুবাদ গল্পগল্প

মা-সন্তানের ভালোবাসা

কোন এক মা তখনো তার হাসপাতালের বিছানায় বসে। এমন সময় নার্স ঢুকলো তার সদ্যজাত ছেলেটাকে কোলে করে। দেখি আমার বাচ্চাটাকে, বলে সাগ্রহে হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নিলেন মা। মাথার ওপরের ঘোমটা সরালেন, কানের দিকে নজর পড়তেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল তার। কোনমতে ঢোঁক গিলে ফ্যাকাশে চোখে তাকালেন নার্সের দিকে। ছেলেটার কান’ই যে নেই! সরল সিধা গৃহিনী মা আর ভালোমানুষ বাবা ঘরে ফিরে গেলেন। বছর’কয় পরে বুঝতে পারলেন, ওর শুনতে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। শুধু কানটার অস্তিত্ব শুন্য, আর কিছু না। তারা নিয়তি ভেবেই মেনে নিলেন ব্যাপারটাকে। কিন্তু স্কুলে রীতিমতো অত্যাচার হতে থাকলো ছেলেটার ওপরে। প্রতিদিন বন্ধুদের ক্ষ্যাপামো আর কত সওয়া যায়?

একদিন কাঁদতে কাঁদতেই বাড়ি ফিরলো সে। ছেলে তার বাবা মাকে বললো,

– বাবা, মা- আমার কান না হলে আর কখনো স্কুলে যাবনা আমি। কোত্থাও যাব না।

ছেলের জেদের কাছে হার মেনে বাবা মা এমন একজন ব্যক্তি খুঁজতে শুরু করলেন, যে তার দুটো কান দান করে দেবে ছেলেটার জন্য। এভাবেই দুই বছর কেটে গেল। অবশেষে একদিন সেই অপেক্ষার পালা ফুরোলো। তোমার জন্যে কান দিচ্ছেন একজন। উৎফুল্ল মা বাবা তাকে সংবাদটা দিলেন। তবে একটা শর্তও আছে। কী? অধীর আনন্দে ঝিকমিকে করতে করতে ছেলেটা জিগ্যেস করলো। মা বললেন,

– যিনি কান দিচ্ছেন তিনি চাননা তুমি কোনদিন উনাকে চেনো। উনার নামও কখনো জানতে পারবে না তুমি। 
ছেলে তো নিমেষে রাজি! পরদিন হয়ে গেল অপারেশন। ছেলে মাথার দুপাশে দুটো ঝকঝকে কান পেল। আজ থেকে সে সম্পূর্ণ। 

অনেক বছর পরে। ছেলে আজ বড় হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত। ভালো আয় করে। এমন একদিন সে বাবা মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলো,

– যিনি আমাকে কান দিয়েছিলেন উনাকে দেখতে চাই আমি। 

বাবা মা অনড়। সম্ভব না প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা। ছেলেও জেদ ধরে বসলো। সেই ব্যক্তিকে একবার কৃতজ্ঞতা না জানানোর সুযোগ না পেলে পানিও মুখে দেবে না সে আর কোনদিন। অবশেষে বাবা মা হার মানলেন। বিকেলের রোদের আলোয় ঝকঝক বসার রুমে দাঁড়িয়ে মা আস্তে করে চুল সরালেন নিজের কান থেকে। সেখানে কোন কান ছিলো না। ছেলেকে কান দিয়েছিলেন তিনিই। সেই অপারেশনের দাগ এখনো বড্ড স্পষ্ট। ছেলে বুঝতে পারলো সবই। কান্নার দমকে কেঁপে উঠতে লাগলো বারবার। কোনমতে জিগ্যেস করলো,

– কিন্তু কেন?
মা একটু হেসে , ছেলের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে জিগ্যেস করলেন,

– কান নেই বলে কী আমায় এখন কম ভালোবাসো তুমি?
– না!

রীতিমতো আর্তনাদ করে উঠলো ছেলে। পাশে বসা বাবা এবার মুখ খুললেন। বললেন,
– সুন্দর অসুন্দর কখনো বাইরের আবরণ দিয়ে ঠিক হয় না। তুমি কেমন সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তোমার মনের ওপর, ভালোবাসার ক্ষমতার ওপর। কান না থাকলেও যেমন মা পর হয়ে যান না, তেমনি শারিরীক খুঁত কখনো ভালো মন্দ সংজ্ঞায়িত করার ক্ষমতা রাখেনা মানুষকে। 

০২/০৭/২০২২, ০৯.০০ AM

[বিদাশী গল্প অবলম্বনে।]

Obinash

শত শত ষ্পার্মের সাথে যুদ্ধ করে একটি মাত্র ষ্পার্ম মায়ের ওভারিতে পৌছুতে পেরেছিলো। সেটাই আমি, এক ও অদ্বিতীয়। নাম আমার অবিনাশ। যে সব দৃশ্য ভাবায়, বুকের ব্যাথা বাড়ায়, সেসব নোট করে করে বেড়ে উঠছি। একদিন সব সত্য ফাঁস করে দেবো বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *