ইসলামধর্ম

মা–বাবার প্রতি অনুগ্রহে মেলে কবুল হজের সওয়াব

মা-বাবার খেদমত অন্যতম ইবাদত। মিরাজ রজনীতে নামাজ ও রোজা ফরজ হয় এবং আল্লাহর তরফ থেকে ১৪টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম হলো আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করা এবং দ্বিতীয় হলো মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ২৩)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে শরিক করো না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৩৬)।’

‘আর আমি নির্দেশ দিয়েছি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার (সুরা-৪৬ আহকাফ, আয়াত: ১৫)।’ ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি, তুমি আমার এবং তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে (সুরা-৩১ লুকমান, আয়াত: ১৪)।’

রমজানে ইবাদত–বন্দেগির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাহান্নাম থেকে নাজাত বা মুক্তি লাভ করে। মা-বাবার খেদমতের মাধ্যমে মানুষ জান্নাত লাভ করে। রমজান যেমন নাজাতের মাধ্যম, মা-বাবাও তেমনি জান্নাতের বাহন। যে মা-বাবার খেদমত থেকে বঞ্চিত হলো, সে আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে বঞ্চিত হলো। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে বলেন, ‘তোমার রব এ ফয়সালা দিয়েছেন, আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের কোনো একজন বা উভয়জন যদি বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে (বিরক্তিতে) তাদের “উফ” বা “উহ” শব্দটি বলবে না এবং তাদের ধমক দেবে না; বরং তাদের সঙ্গে স্নেহসিক্ত কথা বলো। তাদের জন্য দয়ার্দ্রতা ও বিনয়ে হাত বাড়িয়ে দাও, আর বলো, “হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছেন (সুরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৪)।’”

তিনটি জিনিস

যা দেখলে সওয়াব হয়। কাবা শরিফ, কোরআন শরিফ ও মা-বাবার চেহারা।

মা-বাবার খেদমত না করা সন্তানদের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিসম্পাত করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে: একদা জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বারের প্রথম ধাপে পা রেখে বললেন, ‘আমিন!’ অতঃপর দ্বিতীয় ধাপে পা রাখলেন, বললেন, ‘আমিন!’ তারপর তৃতীয় ধাপে পা রাখলেন এবং বললেন, ‘আমিন!’ এরপর খুতবা দিলেন ও নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আজ যা দেখলাম, তা ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি; এটা কি কোনো নতুন নিয়ম নাকি?’ নবী কারিম (সা.) বললেন, ‘না, এটা নতুন কোনো নিয়ম নয়; বরং আমি মিম্বারে ওঠার সময় হজরত জিবরাইল (আ.) এলেন।

আমি যখন মিম্বারের প্রথম ধাপে পা রাখি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা মা-বাবা উভয়কে বা একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেয়েও তাদের খেদমতের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না, তারা ধ্বংস হোক।” তখন আমি (রাসুলুল্লাহ সা.) সম্মতি জানিয়ে বললাম, আমিন! (তা-ই হোক)। যখন দ্বিতীয় ধাপে পা রাখি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা রমজান পেল, কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে তাদের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তারা ধ্বংস হোক।” তখন আমি বললাম, আমিন! আমি যখন মিম্বারের তৃতীয় ধাপে পা রাখি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা আপনার পবিত্র নাম মোবারক (মুহাম্মদ সা.) শুনল, কিন্তু দরুদ শরিফ পাঠ করল না, তারা ধ্বংস হোক।” তখন আমি সম্মতি জানিয়ে বললাম, আমিন!’ (মুসলিম শরিফ)।’


ইসলামের বিধি বিধান সম্পর্কে অন্যান্য লেখা –


সারা দুনিয়ায় মাত্র তিনটি জিনিস আছে, যা দেখলে সওয়াব হয়। কাবা শরিফ, কোরআন শরিফ ও মা-বাবার চেহারা। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘যখন কোনো সন্তান নিজের মা-বাবার প্রতি অনুগ্রহের নজরে দৃষ্টিপাত করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন (বায়হাকি)।’

সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! মা-বাবা ইন্তেকালের পরও কি তাঁদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের কোনো কিছু দায়িত্ব অবশিষ্ট আছে?’ তখন নবী কারিম (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আছে। তা হলো তাঁদের জন্য দোয়া করা, তাঁদের গুনাহের জন্য তওবা ইস্তিগফার করা, তাঁদের শরিয়তসম্মত অসিয়তগুলো আদায় করা, তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাঁদের বন্ধুবান্ধবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। এগুলো মা-বাবার মৃত্যুর পরও তাঁদের সঙ্গে উত্তম আচরণের শামিল (আবু দাউদ)।’ অন্য হাদিসে আছে, ‘বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি (তিরমিজি)।’

০১/০৫/২০২২, ০৯.০০ AM

তথ্যসূত্রঃ

১। প্রথম আলো পত্রিকা (অনলাইন ভার্সন)।

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *