ঈদ আসে, ঈদ যায়
ঘটনা এক
আজমল সাহেব – বুঝলেন ভাইসাহেব, ব্রাইট একটা ছেলে ছিলো আমার। জীবনে ২য় হওয়া শিখাইনি। ছেলেটা ইন্টারে খারাপ করলো, চলে গেল অন্ধকার জগতে। ড্রাগস, খারাপ জায়গা, মামলা।
রহমত চাচা – আমারও এক ছেলে ভাইসাহেব। জীবনে প্রথম হওয়া শিখাতে পারি নাই গাধাটাকে। তবে ফেল করলেও হাসতে শিখাইছি। গাধাটা এখনও রাতে মাঝে মধ্যে আপনার ভাবি আর আমার মাঝখানে ঘুমায়। তখন মনে হয় আমার এই ফেল্টুশটা আমারে জীবনে সব দিছে। গরুটার জন্য চোখে পানি চলে আসে।
ঘটনা দুই
আজমল সাহেব বিশিষ্ট শিল্পপতি। ছেলেটার জন্য এবারের ঈদের বাজেট দেড় লক্ষ টাকার শপিং। আর হাত খরচ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এখানে তৃপ্ততার কোন ছোঁয়া নাই। কারন এটা তার কাছে নতুন কিছু না।
রহমত চাচার বহু দিনের শখ ছেলেটাকে ঈদে একটা নতুন জামা দিবেন। বেতন পেয়েছেন তিন হাজার। মৌলিক খরচগুলো মিটিয়ে হাতে রইল দুই শত টাকা। ফুটপাত থেকে একটা সুন্দর জামা কিনে ছেলেটাকে দিলেন। পলিথিনের কাগজে মোড়ানো জামাটি হাতে পেয়ে ছেলে তৃপ্তির হাসি হাসাতে বাবার মনটা আনন্দে ভরে উঠে।
ঈদের দিন
রহমত চাচার ছেলে সুন্দর করে পুরনো প্যান্টের সাথে শার্ট পরে ঈদগাহে এলো। সকলের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামায আদায় করলো। কোলকুলি করলো। বাসায় গিয়ে একটু সেমাই খেয়েই জামাটা খুলে ফেললো আগামী ঈদের জন্য।
আজমল সাহেবের ছেলেটি কোথায়? আর আজমল সাহেবই বা কই? আজমল সাহেব এখন কারাগারে। ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে গেছেন। গতরাতে রঙ্গিন পানির নেশায় মত্ত ছিল আজমল সাহেবের ছেলেটি। পুলিশ হানা দিয়ে সোজা কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।
সুপ্রিয় সচেতন পাঠক সমাজ, বলুনতো এখানে স্বার্থক কে? রহমত চাচা নাকি শিল্পপতি আজমল সাহেব? যখন আপনার পকেট ভর্তি টাকা থাকবে তখন আপনি ভুলে যাবেন নৈতিকতা। অভাব মানুষকে নৈতিকতা শেখায়। পাহাড়সম টাকায় সবাই সাহেব হতে পারে। কিন্তু সবাই মানুষ হতে হতে পারেনা।
এই ঈদে, ধনী-গরিব সকল ভেধা-ভেদ ভুলে আসুন সবাই বুকে বুক মিলাই। আর প্রতিজ্ঞা করি, একটি কিংবা দুটি দিন নয় বছরের প্রতিটি দিন হোক ঈদের দিন। সবাইকে অবিনাশের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছে।
০৩/০৫/২০২২ ০৯.১৫ AM
