অনুপ্রেরণা

অভিমানি মন

মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী। সে চায়, তার মন খারাপ হলে প্রিয় মানুষটাকে না বললেও সে বুঝে ফেলুক। ফোন করে খানিক ম্লান গলায় ‘হ্যালো’ বলতেই ওপারের মানুষটা বলুক, ‘তোমার মন খারাপ?’ তার এলোমেলো চুল, খানিকটা লাল চোখ দেখে বলুক, ‘তোমার ঘুম হয়নি রাতে? দুঃস্বপ্ন দেখেছো? টেনশন করছো কিছু নিয়ে?’

সে চায়, মানুষটা বুঝুক, কখন শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরতে হয়, চোখের সামনে আলতো করে হাত ছুঁইয়ে বন্ধ করে দিতে হয় চোখের পাতা। সে চায়, মানুষটা বুঝুক, কখন হাতের মুঠোয় হাত রাখতে হায়, ফিসফিসিয়ে বলতে হয়, ‘আমিতো আছিই। তবে মন খারাপ কেন?’

সে চায়, মাঝরাত্তিরে মনের মানুষটা টের পাক, পাশের মানুষটা তার মাথার নিচের সরে যাওয়া বালিশটা ঠিক করে দিচ্ছে। শেষ রাতে যখন খানিক হিম বাতাস নামে, তখন জড়িয়ে দিক ওম চাদর। সে চায়, তার জন্য মাঝরাত্তিরেও কেউ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকুক। মনে রাখুক তার জন্মদিনের কথা, প্রথম দিনের কথা, স্পর্শ ও অনুভূতির কথা।

সে চায়, তাকে ছুঁয়ে দেখতে গিয়ে কেউ মিথ্যে-মিথ্যি অজুহাত বানাক। কেউ কপাল ছুঁয়ে বলুক, ‘দেখি, দেখি, তোমার জ্বর নয় তো? অভিমানে দূরে সরে যেতে চাইতেই কেউ বলুক, ‘খানিক ভুল করেছি বলেই দূরে সরে যেতে হবে? তবে এই যে এতো ভালোবাসি, তাতে আরও কাছে আসা যায় না? আরও আরও কাছে? অনেক অনেক কাছে?’

মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী। তারা দুজনই কেবল ভাবে, এসবই ওই মানুষটা করুক। ওই অন্য মানুষটা। কিন্তু শেষমেশ করা হয় না কারোরই। তাই কাছে আসার রঙ্গিন দিনেরা ক্রমাগত দূরে যাওয়ার ধূসর, বিবর্ণ গল্প হয়।

মানুষ বড্ড অভিমানী প্রাণী। অভিমানে সে ক্রমশই দূরে চলে যায় বুকে পুষে রাখে এক সমুদ্র আক্ষেপ কিংবা এক বুক আগুন।

২৯/০৩/২০২২, ১২.৪০ AM

Kuasha

হয় একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ। আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য। একা থাকা, মুভি দেখা, পেন্সিল দিয়ে ছবি আঁকা ও বই পড়া আমার নেশা। খুব বিরক্ত লাগে পিছনে কিংবা আমার আড়ালে কেউ কথা বললে। লাইফ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে করতে নিজেই কখন যে এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টে রুপান্তরিত হয়েছি বুঝিনি। জীবনে অনেক কিছু হতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুই হতে পারিনি। তার মানে এই নয় যে আমি ব্যর্থ একজন মানুষ। আমার ব্যর্থতাতেই আমার সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *