বাংলাদেশ

নিউমার্কেট শপিংমলঃ ক্রেতা হয়রানীর শীর্ষে

গত ১৯/০৪/২০২২ ইং তারিখে ঢাকা নিউ মার্কেট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। মূহুর্তেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার পরিস্থিতি। ঢাকা কলেজের মূল ফটকের ভেতরে থাকা ছাত্রদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ঢাকা কলেজের ভবনের ছাদ থেকে নিউ মার্কেটের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁরতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। গত মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ধাওয়া পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ছুঁড়েছে পুলিশ। কয়েকটি বিস্ফোরণেরও আওয়াজও পাওয়া গেছে।

ঘটনাস্থলে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেটের কর্মীরা মুখোমুখী অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল ছুটছে। ছাত্রদের মধ্যে অনেককে হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নিয়েছিল, অন্যদিকে চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে অন্তত তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

নিউ মার্কেট থানার পরিদর্শক অপারেশনস হালদার অজিত ঠাকুর বলেন, নিউ মার্কেটসহ আশেপাশের এলাকার সকল দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান করছে। দোকান কর্মচারীরাও বিচ্ছিন্নভাবে আছে। এর আগে গত রাতের সংঘর্ষের জেরে সকাল থেকে নীলক্ষেত মোড়ে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ফলে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ‘পোষাক কেনাকাটা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে’ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দুই ব্যবসায়ী আহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বেশ কয়েকসজন সাংবাদিক।

এটা পুরনো ঘটনা। এমনটা ঘটে আসছে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু প্রতীবাদ হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি। যেন মগের মুল্লুকে বসবাস আমাদের। বলার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই। নেই প্রশাসনের নজরদারী। নিউমার্কেট, গাউসিয়া এলাকার ব্যবসায়ীরা আর আগের মতো নেই। “ক্রেতা হলো ব্যবসার লক্ষ্মী” এ যেন আজ বইয়ের পাতায় শোভা পায়, বাস্তবে নয়। নিচে নিউমার্কেট, গাউসিয়া এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতার একটি বাস্তব উদাহরন দিয়ে এই লেখাটি শেষ করবো।

ক’দিন পরেই ভাইয়ের বিয়ে। মাকে নিয়ে গাউছিয়াতে শপিং করতে গিয়েছিল মেয়েটি। ওদিকে গেলে নূর ম্যানশনের কসমেটিকসের গলিতে সব মেয়েই একটু-আধটু ঢুঁ মারে। বাহারি ব্যাগ, ওয়ান টাইম জুতা, নতুন ডিজাইনের চুরি কিংবা স্কার্ফ নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে পছন্দ হলে এবং দর-দামে মিললে কিনেও ফেলে কেউ কেউ। মেয়েটিও ঢুঁ মেরেছিল, উদ্দেশ্য যদি ভালো নকশার বালা বা চুড়ি মেলে। একটি দোকানে ইমিটেশনের একজোড়া চুড়ি খানিক পছন্দও হয় মা-মেয়ের। কিন্তু বাধ সাধে আকাশচুম্বি দাম। একদিকে খুব বেশি পছন্দ না হওয়া, অন্যদিকে অযৌক্তিক দাম- মিলে মিশে অন্য দোকানে যেতে চাইলে মা-মেয়েকে বাধা দেয় দোকানি। তার দাবী, না কিনলে, দাম শুনলো কেন? 
মেয়েটি বললো,

– দাম শুনলেই কিনতে হবে, এটা কেমন নিয়ম?
দোকানি তখোন স্বগোক্তি করে,

– কই থেইকা যে উইঠা আসে, যত্তসব ফহিন্নির দল। 
এমন বাজে কথার প্রতিবাদ করেন মেয়েটির মা। বলেন,

– এই ছেলে, তুমি এমন ভাষায় কথা বলছো কেন? 
দোকানি তখোন চিৎকার করে ওঠে,

– মার্কেটে কি চেহারা দেখাইতে আসেন? ফালতু মাইয়ালোক কোথাকার!

ভয়ানক এমন ব্যবহারে স্কুল শিক্ষিকা মা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার টেকনোলজীর মেয়েটি হবভম্ব হয়ে যায়। বিনা কারনে কেউ এই ভাবে কথা বলতে পারে তাদের বিশ্বাসই হয় না। মেয়েটি এবার নিজের পরিচয় দিয়ে বলে, মুখ সামলে কথা বলবেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। দোকানির দূর্ব্যবহার এবার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মা-মেয়ের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে গালি দিতে শুরু করে লোকটা। প্রতিবাদ করতে গেলে মারতে উদ্যত হয়। ওই মার্কেটের ঐতিহ্য বজায় রেখে অভদ্র লোকটার পক্ষ নেয় অন্য দোকানিরাও। কোনঠাসা মা-মেয়েকে শুনতে হয়,

– ‘মাইয়া মানুষ হইয়া ঝগড়া করেন ক্যান? চুপচাপ মাথা নিচু কইরা কাইটা পড়েন!’

লজ্জায় অপমানে মুষড়ে গিয়ে শারীরিকভাবে প্রায় লাঞ্ছিত হতে হতে মাকে নিয়ে কোন রকম ঘরে ফেরে মেয়েটি। চোখ দিয়ে নামে জল। ভাবে, এই সমাজ মেয়েদের জন্য নয়। প্রতিটা ধূলিকনাও যেন সুযোগ পেলে হয়ে ওঠে নারীর প্রতিপক্ষ! ফের অন্য কোন মার্কেটে নতুন কোন অপমানের জন্য প্রস্তুত হতে হতে কেঁদে-কেটে ঘুমিয়ে পড়েই মা ও মেয়ের এই গল্পটা শেষ হতে পারতো! কিন্তু শেষটা সেভাবে হলো না। বরং ওখান থেকেই আসল গল্পটা শুরু হলো। ভূক্তভোগি মেয়েটি চরম এই লাঞ্চনার প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু কিভাবে, কার কাছে সে প্রতিবাদ নিয়ে যাবে বুঝতে পারলো না সহসা। তারপর ফেসবুকের জনপ্রিয় গ্রুপ জাস্টিস ফর উইমেনে একটা পোষ্ট দিয়ে জানতে চাইলো, নিউমার্কেট এলাকায় কেউ যদি দূর্ব্যবহার করে, তাহলে কোথায়-কিভাবে অভিযোগ করতে হবে? 
সামাজিক নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক ছোট ভাই এই আপাত ক্ষুদ্র ঘটনাটি আমার নজরে আনে। আমি তখোন ওই পোস্টে জানতে চাই, সত্যিই কি অ্যাকশনে যেতে চান? – তবে প্রতিবাদের রাস্তাটা আমি দেখাতে পারি। মেয়েটি তখন আমাকে ইনবক্স করে। জানায়, সে ওই জানোয়ারের কৃতকর্মের বিচার চায়। তার যুক্তি, এই ঘটনার প্রতিবাদ যদি সে না করে, তাহলে ওই ছেলে আরো শত শত মেয়ের সঙ্গে একই কাজ করতে থাকবে। যদি একটা অপরাধিরও শাস্তি হয়, তবে প্রতিদিন ভূক্তভোগি অসংখ্য মেয়েও এসব ঘটনায় প্রতিবাদের সাহস পাবে। দুষ্টু লোকেরাও সতর্ক হবে।

মেয়েটির সাহস এবং প্রতিবাদ করার জোরালো মানসিকতা দেখে আমার নিউ মার্কেট সার্কেলের সিনিয়র সহকারি কমিশনার নাজমুন নাহার আপার কথা মনে পড়ে। ক’দিন আগে সিএনজিকেন্দ্রীক দূর্ভোগের শিকার হয়ে নাগরিক প্রতিবাদের একটা কার্যকরি উদাহরণ তৈরি করেছিলাম। ফেসবুকে শেয়ার করার পর সেই ঘটনা ভাইরাল হয়ে যায়। নজরে পড়ে আপার। ঘটনাস্থল হাতিরপুল তার এলাকা হওয়ায় তিনি আমাকে ইনবক্স করেন এবং নিজের নাম্বার দেন। বলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকায় কোন অনিয়ম চোখে পড়লে যেন তাকে জানাই। 
আমি আপ্লুত হই। এই দেশে চেয়েও যেখানে পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায় না, সেখানে যেচে কোন পুলিশ কর্মকর্তা সাহায্য করবেন বলছেন- এ তো বিরল ঘটনা। তখনই মনে হয়েছিল মানুষটা আলাদা। মনে হওয়াটা বিশ্বাসে পরিণত হলো সাত দিনের মধ্যেই। আয়নাবাজির টিকিট ব্লাকে বিক্রি হচ্ছে জানালে ত্বরিৎ অ্যাকশনে গিয়ে গ্রেফতার করে এনেছিলেন চার জনকে।

আমি নাজমুন আপুকে ফোন করে মেয়েটির ঘটনা জানাই। একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে তিনি আমাকে নিউমার্কেট থানায় তার কার্যালয়ে যেতে বলেন। ভূক্তভোগি মেয়েটিকে নিয়ে আজ দুপুরে আমি আপুর কাছে যাই। যেহেতু মেয়েটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেহেতু থানায় যাওয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য স্যারকে এবং ডিআইজি পদমর্যাদার ডিএমপির একজন অতিরিক্ত কমিশনারকেও ঘটনাটা জানিয়ে রাখি, যাতে মালিক সমিতি চাপ দিয়ে অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে না পারে। ভিসি স্যার এবং ডিআইজি দু’জনই এসি নাজমুন আপুকে ফোন করে এই ঘটনায় দ্রুত অ্যাকশনে যেতে বলেন। তারপর?

তারপর রচিত হলো প্রতিবাদের দারুণ এক গল্প। 
দুই নারীর সঙ্গে চরম অভদ্র আচরণকারি সেই কুলাঙ্গারটাকে ফোর্স পাঠিয়ে ধরে আনা হলো মুহুর্তেই। ঘটনাস্থলেই মেয়েটার পা ধরে মাফ চেয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েও সফল হয়নি মালিক সমিতি। আপুর দৃঢ়তায় থানা থেকে অপরাধীকে হালকা উত্তম-মাধ্যম দিয়ে সোজা চালান করে দিয়েছে কোর্টে। দু’জন নারীকে একা পেয়ে বাহাদুরি দেখানো জানোয়ারটা থানার কাস্টডিতে এমন ভাবে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো, যেন অবুঝ একটা শিশু। একেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি!

নিউমার্কেট এলাকা ঘিরে গড়ে ওঠা ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল, ইডেন, বদরুন্নেসার মতো নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী প্রতিদিন কেনাকাটা করতে যান। মার্কেটের দোকানগুলোর বদমায়েশ কিছু কর্মচারির দ্বারা প্রতিনিয়তই সেসব নারীরা নানা ভাবে নিগৃহীত হন। দিনে দিনে ব্যাপারটিকে তারা নিয়মে পরিণত করে ফেলেছেন। এসব ঘটনায় দু-একজন যদিও বা প্রতিবাদ করে, সদলবলে ওরা তখোন হামলে পড়ে। প্রায়শই সেইসব দু:খের কাহিনী ফেসবুকে শেয়ার করেন ভূক্তভোগি নারীরা। কিন্তু প্রতিবাদের সঠিক রাস্তাটা জানা না থাকায় অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্যেও প্রতিকার পাননা। প্রতিবাদী নারীদের জন্য আজকের ঘটনাটা আলোকজ্জ্বল একটা উদাহরণ তৈরি করলো। 
একটু সাহস নিয়ে এগিয়ে এলে, নিয়ম মেনে প্রতিবাদ করলে এবং সেই প্রতিবাদটা সঠিক যায়গায় পৌঁছে দিতে পারলে- এই দেশেও যে অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া সম্ভব, তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। নেই নেই করেও আমাদের দেশে যতটুকু নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আছে আমরা তার কতটুকুই বা ব্যবহার করতে পারছি? সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুন নাহার আপুকে ধন্যবাদ দিতে চাই না। শুধু এটুকুই বলতে চাই, আপনার মতো অফিসার আছে বলেই আমাদের আশার প্রদীপটা এখোনো নিভে যায়নি। যাপিত জীবনের সমবেত কষ্টগুলো, বেদনাগুলো আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে কিছুটা হলেও শান্তি পাই। মহান সৃষ্টিকর্তা আপনার এবং আপনার পরিবারের মঙ্গল করুক।

নিউমার্কেট এলাকায় প্রতিনিয়ত অনিয়ম-দূর্ভোগের শিকার নারীদের মধ্যে যারা অন্যায়ের সত্যি সত্যিই প্রতিবাদ করতে চান, তারা আমাদের দেখিয়ে দেয়া এই আইনি পথটি অনুসরণ করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার প্রতিবাদটি অন্য কেউ এসে করে দিয়ে যাবে না। শুরুটা অন্তত আপনাকেই করতে হবে। এই দেশে কিছু হয় না বলে যারা পাশ কাটিয়ে যান, যারা প্রতিবাদের বদলে প্রতিনিয়ত অন্যায়কে মেনে নেন, তাদের প্রতি অনুরোধ, নিজের যায়গা থেকে একটুখানি আওয়াজ তুলুন। জনারণ্যে শুরুতে সেই আওয়াজ বড় ক্ষীণ আর বেমানান ঠেকলেও ধীরে ধীরে দেখবেন আরো সহস্র আওয়াজ আপনার দিকে ছুটে আসছে। গণমানুষের সম্মিলিত সেই আওয়াজের সামনে দাঁড়ায়, এমন অপশক্তি কোথায়? ক্যাম্পাস থেকে পোলাপান এনে মারপিট করার বদলে আমরা যেভাবে অভিযোগটি করেছিলাম, তার একটি নমুনা দিলাম :

বরাবর,
জনাব নাজমুন নাহার
সহকারী কমিশনার 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ,
নিউ মার্কেট সার্কেল, ঢাকা।

বিষয় : নিউমার্কেট এলাকার গাউছিয়া মার্কেটে শপিং করতে গিয়ে দোকানির অভদ্র আচরণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে

জনাব, 
আমি তামান্না রহমান (ছন্মনাম), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার টেকনোজী ইন্সটিটিউটের একজন নিয়মিত ছাত্রী। আমার সেশন ——–। আমি —— হলের অনাবাসিক ছাত্রী। আমার পিতার নাম ————। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে গাউছিয়া মার্কেটে আমার স্কুল শিক্ষিকা মাকে নিয়ে শপিং করতে যাই। একটি দোকানে চুড়ির দর-দাম করে অন্য দোকানে যেতে চাইলে দোকানি আমাদের বাধা দেন। দাম শুনে না কিনে চলে যাবার জন্য আমাদের বাজে ভাষায় গালাগাল করেন। প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর আরো চড়াও হয়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এমনকি মারতেও উদ্যত হন। এই ঘটনায় আশপাশের দোকানের কেউ এগিয়ে তো আসেই নি বরং ওই দোকানির পক্ষ নিয়ে আমাদের হেনস্থা করে। এক পর্যায়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল ছাত্রী পরিচয় দেয়ার পরও লেখার অযোগ্য ভাষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আমাকে গালাগাল করতে থাকেন ওই লোক। একপর্যায়ে আমাদের গায়ে হাত তুলতে শুরু করেন। এ ঘটনায় আমরা চরম অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছি। ওই দোকানির নাম না জানলেও দোকানটির অবস্থান আমি চিনি এবং দোকানিকেও দীর্ঘদিন কেনাকাটা করায় চেহারায় চিনি। এই এলাকায় আমার মতো হাজার হাজার নারী এইসব বদমায়েশ দোকানির দূর্ব্যবহারের এবং কখনো কখনো হামলারও শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আমি আমাদের সঙ্গে ঘটা এই ঘটনায় যথাযোগ্য বিচারের মাধ্যমে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আপনার স্মরণাপন্ন হয়েছি।

অতএব, মহাদয়ের নিকট আবেদন, আমার অভিযোগটি আমলে নিয়ে, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে যাথোপযুক্ত শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে আমাকে বাধিত করবেন। উল্লেখ থাকে যে, অভিযানে গেলে আমি ওই দোকান ও দোকানিকে চিনিয়ে দিতে পারবো।

বিনীত নিবেদক

তামান্না রহমান (ছন্মনাম)
ইন্সটিটিউট অব লেদার টেকনোলজী, 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
সেশন————-
হলের নাম———
ফোন নম্বর ——-

নিউ মার্কেট এলাকার সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের ফোন নাম্বার :
এসআই মনির : ০১৭০৬২৬২৩৭৬ (মার্কেট সংক্রান্ত)
ওসি নিউমার্কেট থানা : ০১৭১৩ ৩৭৩১২৮ 
এসি নিউমার্কেট সার্কেল : ০১৭১৩৩৯৮৫৩২ (বিশেষ প্রয়োজনে এবং ওসি ও এসআই আমলে না নিলে)
ডিসি রমনা : ০১৭১৩৩৭৩১২০ (উপরের তিনজনের কেউ অভিযোগ আমলে না নিলে)।

অবশেষে এটুকুই বলতে চাই, অন্যায়ের প্রতীবাদ করতে হবে আমাদের সবাইকে। নিজের জায়গা থেকে। তবে এই প্রতিবাদের কারনে অন্য কেউ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়, আমাদের সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারন, এই দেশটা আপনার – আমার – সবার।

২৩/০৪/২০২২, ১০.৩০ AM

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *