মন খারাপের আরেকটা রাত
মন খারাপ হলে আমি গান শুনে মন ভালো করার চেষ্টা করে থাকি। গান শুনলে আপনাদের আসলেই মন ভালো হয় কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু আমার মন ভালো হতে শুরু করে। আমি যখন মন খারাপ করা অবস্থায় গান শুনি, তখন ঐ গানের প্রতিটা শব্দ খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি। ঐ গানের অর্থ, সুর, তাল সবকিছু ইনজেকশনের মত মাথার মধ্যে ঢুকাতে থাকি।
খুব বেশি পরিমাণে মন খারাপ করা অবস্থায় আমি একটা গান বার বার শুনি। তারপর ঐ গানের কথার সাথে নিজের অবস্থাটা মিলাই। গানের জগতে নিজেকে হারিয়ে ফেলি পুরোপুরি। এ যেনো ঐ জগতে আমি গানটার স্রষ্টা। আমার মন খারাপের সুরেই গানটা বাজতে থাকে। বার বার, বার বার। আমার একাকীত্ব ও নীরবতার শব্দের সাথেই গানটি প্রতিটা শব্দ উচ্চারণ করি।
আমার থেমে থেমে চলতে থাকা বুকের ভেতরের ধক ধক শব্দের সাথেই গানের প্রতিটা বিট স্পন্দিত হতে থাকে। কী ভয়ঙ্কর অদ্ভূত অনুভূতি, তাই না! বার বার বাজতে থাকা প্রিয় গানটা একটু একটু করে বুকের ভেতর জমাট হয়ে থাকা বরফের মত কষ্টটাকে গলাতে সাহায্য করে।
চোখ বন্ধ করে গানটা শুনতে থাকি। বন্ধ হয়ে থাকা চোখের কোণ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় কষ্টের বরফ গলা পানি অশ্রু হয়ে টুপ টুপ করে পড়তে থাকে। এক সময় সমস্ত কষ্টের বরফ গলে যায়, আর শুধু গানটা বাজতেই থাকে। ক্লান্ত এই আমি ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাই।
খুব সকালে আধো ঘুম ঘুম অবস্থায় হাতড়ে একটা বাটন চেপে গানটাকে থামিয়ে দেই। বিদায় জানাই আরেকটি কষ্টময় রাতের সমাপ্তির। স্বাগত জানাই আরেকটা সুন্দর প্রভাতের। কষ্টের গল্পের যেনো এখানেই শেষ। হাজারটা মন খারাপ করা রাতের অশ্রুভেজা বালিশ আর পেঁচিয়ে থাকা ইয়ারফোনটা ছাড়া এই গল্পটা আর কেউ জানে না। কেউ না।
মূল লেখাঃ ০১/০৭/২০১৬, ১২.৪০ AM
ব্লগে প্রকাশঃ ১৪/০১/২০২২, ১১.৩০ AM
