লাইফষ্টাইল

ভালো ছেলের দোকলা হবার মন্ত্রনা

একটি মেয়ের উপর থেকে যখন একটি ছেলের বিশ্বাস চলে যায় তখন শুধু পার্টিকুলার ওই মেয়ের উপর থেকে না, সমগ্র মেয়ে জাতির উপরে থেকে “বিশ্বাস” চলে যায়। বিশ্বাস ভেঙ্গে যাওয়ার পর যদি ঐ ছেলেকে সত্যিই কেও “ভালবাসতে চাই – কাছে আসতে চাই” বলে তবুও ছেলেটি আর বিশ্বাস রাখতে পারেনা। কারন অন্য একটি মেয়ে তার বিশ্বাস ভেঙ্গেছে। ছেলেটি ভাবে, হয়ত এই মেয়েও বিশ্বাস ভাংবে। স্বভাবিক ব্যাপার।

একটা মানুষকে হুট করে একদিনে বিশ্বাস করা যায় না। এর জন্য আস্তে আস্তে “আস্থার” জায়গাটা তৈরি করা লাগে। তাকে প্রতিদিন একটু একটু করে গল্পের বই পড়ার মত করে পড়া লাগে। তাকে বোঝার চেস্টা করা লাগে। নগরীর ব্যাস্ত রাস্তা ওই মানুষটার হাত ধরে তখনই পার করা যায় যখন তার উপর আস্থা নামক জিনিষটা থাকে। বৃস্টিতে ভিজে যাওয়া শরীরের উত্তাপ তখনই ভাগ করা যায় যখন মনের ভেতর তার প্রতি ভালবাসার প্রবল স্রোত বইতে থাকে।

মাঝ রাতে ঘুম ভেংগে যাওয়ার মত হঠাৎ যদি দেখা যায় সেই বিশ্বাসের দাবীদার বিশ্বাসের যোগ্য না তখন? তখন আসলে কিছুই হয় না, শুধু ছেলেটা সমগ্র মেয়ে জাতির উপর তার বিশ্বাসটা হারিয়ে ফেলে। ঠিক তেমনি মেয়েরাও বিশ্বাস আনতে পারেনা পুরুষ জাতীর উপর। ছেলেটি কিন্তু খুব ভালো। নম্র-ভদ্র স্বভাবের, কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে না। লেখাপড়ায়ও ভালো। অন্যদিকে ক্যারিয়ার সচেতন, মা-বাবার খেয়াল রাখে। সমাজে সকলেই তাঁদেরকে ভালো ছেলে হিসাবে জানে।

একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ভালো ছেলেগুলোর প্রেমিকা হয় না কিংবা কারো উপর আস্থা তৈরি হয় না। বা প্রেমিকা হলেও সম্পর্ক স্থায়ী হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মন ভাঙার যন্ত্রণা ছেলেটি একা বহন করে বেড়ায়। কেন হয় এমন? সুপ্রিয় পাঠক পাঠিকাগন আসুন আজকের লেখায় জানবো, কারন গুলো কি কি।  

১) গায়ে পড়া স্বভাব নেই

ভালো ছেলেরা শুধু মেয়ে কেন, কারো সাথেই গায়ে পড়ে আলাপ করতে পারেন না। এমনকি কেউ আলাপ করতে এলেও অনেকেই নিজের মাঝে গুটিয়ে থাকেন। ফলে তাঁদের পরিচিত মানুষের পরিধি হয় অনেক কম। আর মেয়েদের সাথে পরিচয়ও হয় কম।

২) তারা ছলকলা বোঝে না

প্রেম করতে ও কোন মেয়েকে প্রেমে ফেলতে গেলে একটু কৌশল, একটু ছলাকলা জানতেই হয়। বলাই বাহুল্য যে ভালো ছেলেরা এসব থেকে একশ হাত দূরে থাকেন এবং এগুলো বোঝেনও না। প্রেমের সপ্ত ছলকলা এদের রপ্তের বাইরেই থেকে যায়।

৩) ভালো ছেলেরা “বোরিং” হয়

মেয়েদের একটা চিরকালের আগ্রহ আছে একটু খারাপ ছেলেদের প্রতি। তাঁদের প্রেমিকা হওয়াকে মেয়েদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ মনে হয়। অন্যদিকে ভালো ছেলেদেরকে তাঁদের চোখে মনে হয় “বোরিং”।

৪) মায়ের কথা মেনে চলে

বেশিরভাগ ভালো ছেলে মায়ের কথা খুব শোনে। মায়ের পছন্দ ছাড়া বিয়ে করবো না, কিংবা সব সিদ্ধান্তে মা’কে শামিল করে তারা। এই ব্যাপারটা বেশিরভাগ মেয়ে পছন্দ করে না।


লাইফ হ্যাকিং আরো বেশ কিছু টিপস্‌ –


৫) ক্যারিয়ার নিয়ে বেশী সচেতন

বেশিরভাগ ভালো ছেলেই নিজের লেখাপড়া ও ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকেন। আর এসবের মাঝেই হারিয়ে যায় প্রেম ও অন্যান্য ব্যাপার। যখন বুঝতে পারে, ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।

৬) মিথ্যা বলতে পারে না

প্রেমের সম্পর্কে টুকটাক নির্দোষ মিথ্যা থাকেই। নিজের সম্পর্কে একটু বাড়িয়ে বলা, নিজেকে একটু হিরো সাজিয়ে উপস্থাপন করা ইত্যাদি ভালো ছেলেরা পারেই না একদম। ফলে মেয়েরাও পটে না সহজে।

৭) শুরুতেই সিরিয়াস হয়ে যায়

কারো সাথে প্রথম ডেটিং-এ এই ধরণের ছেলেরা খুব বেশী সিরিয়াস হয়ে যায়। মেয়েটির ওপরে অধিকার ফলাতে থাকে। আর এটাই সম্পর্কটাকে সামনে এগোতে বাঁধা দেয়।

৮) প্রচণ্ড আবেগী হয়

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো ছেলেরা হয় প্রচণ্ড আবেগী ও স্পর্শকাতর। এরা খুব অভিমানী স্বভাবেরও হয়। তাই তুচ্ছ কারণে এদের সম্পর্ক ভাঙে এবং নতুন সম্পর্ক হয় না।

৯) খারাপ মেয়েদের খপ্পরে পড়ে

বেশিরভাগ ভালো ছেলেই সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারে না। ফলে তারা পুরুষ লোভী কিছু খারাপ মেয়েদের খপ্পরে পড়ে। এবং এই কারনে অন্য মেয়েদের উপর থেকে তারা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

১০) সম্পর্ক ভীতি কাজ করে

প্রেম করলে কী হবে? যদি বিয়ে না করতে পারি? বাসায় জানলে কী হবে? কীভাবে প্রপোজ করবো, সম্পর্ক নিয়ে ইত্যাদি হরেক রকম ভীতি কাজ করে অনেকের মনেই। আর এর ফলে তাঁদের প্রেম করাটাই হয়ে ওঠে না। 

১৬/০৫/২০২২, ০৯.০০ AM

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *