ইতিহাসবিশেষ সংকলন

ইলুমিনাতি – এক গুপ্ত সংঘের অজানা ইতিহাস

ইলুমিনাতির কথা আমি সর্বপ্রথম জানতে পারি ক্লাস এইটে হুমায়ুন আহমেদের লেখা এক গল্পের বইতে। তখন স্রেফ একটা গল্প ভেবেই এড়িয়ে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের যখন উঠলাম, প্রচুর পরিমানে ইংলিশ মুভি দেখা শুরু করলাম। অনেক হরর মুভিতে ইলুমিনাতির কথা বলা আছে। তখনও স্রেফ এটা কল্পকাহিনী ভেবে এড়িয়ে গিয়েছি। আর বর্তমানে ফেইসবুকের কল্যানে বিস্তারিত জানলাম। এরপর ইউটিউব, ইলুমিনাতির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, নেট সবকিছু ঘাটাঘাটির পর দেখলাম ইলুমিনাতির হাতেই পুরা দুনিয়ার কন্ট্রোল। 

ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠাতা Adam Weishaupt
ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম উইশাপ্ট (Adam Weishaupt) (1748–1830)

পল ওয়াকারের মৃত্যু, ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে জার্মানির জয়, নাইন ইলেভেন ট্রাজেডি সব কিছুর গোড়ায় আছে ইলুমিনাতি। পুরা দুনিয়া কন্ট্রোল করছে এই ইলুমিনাতি। সবকিছু এরা প্রিপ্ল্যান করে রাখে। সবকিছু চলে এদের ইশারায়। অদ্ভুত একটা বিষয়, কিন্তু সবার জানাটা উচিত। শুনলে অবাক লাগে। মনে হয়, না এসব সত্য না। এজন্যেই মূলত লেখা। ‘ইলুমিনাতি’ বিষয়টা নিয়ে আমাদের জ্ঞান খুবই অল্প। বাঙালীরা তো এখনও অনেকে জানেই না। যারা মুভিখোরের পর্যায়ে পড়ে তারা বিভিন্ন মুভি দেখে এই শব্দটা মোটামুটি শুনেছেন।

আমেরিকা নামক রাষ্ট্রটি নিয়ন্ত্রণ করে ইলুমিনাতি নামক একটি গ্রুপ। যারা শয়তানের পূজা করে অর্থাৎ ‘ডেভিল ওরশিপার‘। আমেরিকার প্রত্যেকটি প্রেসিডেন্ট এই ইলুমিনাতি দলের সদস্য। আমেরিকান সরকার আমেরিকান সিটিজেনদের প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দেয় একটা কারণে। যাতে তারা হাতের কাছে সবকিছু পেতে পেতে আস্তে আস্তে অলস হয়ে পড়ে। এই অলস আমেরিকানরা যাতে প্রয়োজন হলে কোন ধরণের বিদ্রোহ বা রায়ট করতে না পারে। যাই হোক। আগের প্রেসিডেন্টদের কথা থাক। সাম্প্রতিক কালে আসি। জর্জ ডাব্লিও বুশের বাবা জর্জ বুশ ‘নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার‘ একটি প্রস্তাবনা আনেন। যার মূল বক্তব্য ছিলো এমন – বিশ্বের জনসংখ্যা কমিয়ে ২০০ কোটি’তে নিয়ে আসতে হবে। এরপর সেই ২০০ কোটি মানুষকে নিয়ে নতুন করে নতুন আইনে বিশ্ব পরিচালনা শুরু হবে।”

বিশ্বের জনসংখ্যা কমিয়ে ২০০ কোটি’তে আনার একটাই উপায়। একটা বিরাট মাস জেনোসাইড বা বড় গণহত্যা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ একটি উদাহরণ মাত্র। এবার সবচেয়ে ভয়াবহ কথাটি বলি। এইডস রোগের ভাইরাস সৃষ্টি করা হয়েছে আমেরিকার গোপন ল্যাবরেটরীতে। এই ভাইরাস টেস্ট করা হয় আফ্রিকার বানরের উপর। সেখান থেকে নানান পর্যায় ঘুরে একজন আমেরিকান সমকামী এই ভাইরাস আমেরিকায় নিয়ে আসেন। নতুন ইবোলা ভাইরাসের সৃষ্টি করা হয়েছে আমেরিকান এয়ার ফোর্সের ল্যাবরেটরীতে। এরপর ছড়ানো হয়েছে আফ্রিকায়। কারণটা কি? আমেরিকার প্রত্যেকটা প্রেসিডেন্ট দুইবার করে নির্বাচিত। পরবর্তীতে আইন করে নির্ধারণ করা হয়, পরপর দুই টার্মের চেয়ে বেশি কোন প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন না।

একটি বইয়ের উপর রাখা মিনার্ভার পেঁচা প্রতীক যা ব্যাভারিয়ান ইলুমিনাতি তাদের মিনারভাল ডিগ্রিতে ব্যবহার করেছিল
একটি বইয়ের উপর রাখা মিনার্ভার পেঁচা প্রতীক যা ব্যাভারিয়ান ইলুমিনাতি তাদের মিনারভাল ডিগ্রিতে ব্যবহার করেছিল

যে আমেরিকার এফবিআই লাদেন বা সাদ্দাম হোসেনকে গর্তের ভেতর থেকে বের করে এনেছে। বিশ্বের সব শক্তিশালী স্যাটেলাইট যাঁদের। তারা নিজের দেশের প্রেডেন্টের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে পারলো না? একটু অবাক করার মতো বিষয় নয় কি? জর্জ বুশের সন্তান পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হওয়া জর্জ ডব্লিও বুশ কোন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন না। কিছু নির্দিষ্ট সিনেটরের সম্মতিতে তাঁকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়। যিনি ছিলেন ইলুমিনাতি দলের অন্যতম একজন নেতা। বুশ এসেই পৃথিবী কাঁপালেন কিছু ইস্যু দিয়ে। জর্জ বুশ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলেন শুধুমাত্র নাইন ইলেভেন বা টুইন টাওয়ার ট্র্যাজেডীর জন্য নেয়া একশনের কারণে। যার নাম দেয়া হলো ‘টেরোরিজম দমন‘। একটা মজার বিষয় হলো বুশকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আনার জন্যে টুইন টাওয়ার ট্রাজেডী ছিলো সম্পূর্ণ সাজানো একটা নাটক।

ইলুমিনাতির বিভিন্ন সাইন আছে। গুগলে একটু সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। আমরা দুই আঙ্গুল উঁচিয়ে ‘রক এন্ড রোল‘ এর যে সাইন দেখাই, সেটা শয়তানের সাইন। তাছাড়া স্ট্যাচু অফ লিবার্টির হাতে যে জ্বলন্ত মশাল আছে সেটাকে বলা হয় ‘আলোকবর্তিকা’। কিন্তু এই মশাল শয়তানের একটি রূপ ‘লুসিফার‘ এর সাইন। ইলুমিনাতির সবচেয়ে পপুলার সাইন হলো একটি চোখ। যেটি আমেরিকার এক ডলার নোটে আছে। ‘দাজ্জাল’ সম্পর্কে যারা জানেন, তাদের কি মনে পড়ে যে কুরআন বলে দাজ্জালেরও একটি চোখ থাকবে? যাকে ধ্বংস করার জন্যে আখেরী জমানায় আবার আসবেন ইমাম মাহাদী?

প্রশ্ন আসতে পারে কারা এই ইলুমিলুমিনাতির সদস্য? কিংবা কারা পরিচালনা করছে এই সংগঠনটি? ১৭৮২ সালের দিকে ইলুমিনাতি-তে তিনটি শ্রেণীর সূচনা করা হয়। শ্রেনী তিনটি নিম্ন রূপ।

ক্লাস – ১, The Nursery –

এ স্তরকে নিম্নস্তরও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে তারাই থাকে যারা সদ্য যোগ দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নোভিসিয়েট, মিনারভাল এবং ইলুমিনাটাস মাইনর। নিম্ন স্তরের সদস্য বলতে ধনী ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তি বর্গকে বোঝায়। সমাজের সর্বস্তরে এরা ছড়িয়ে আছে।

ক্লাস – ২, Masonic Grades –

এই স্তরের সবাই ফ্রিম্যাসন বা মেসোনিক গ্রেড। পুরো ফ্রিম্যাসন বা মেসোনিক গ্রেড সোসাইটি এই স্তরে আছে। এরা একটু উচ্চ পর্যায়ের। শিক্ষানবিশ, কম্প্যানিয়ন এবং মাস্টারের তিনটি “ব্লু লজ” গ্রেড স্কটিশ নভিস এবং স্কটিশ নাইটের উচ্চতর “স্কটিশ” গ্রেড।

ক্লাস – ৩, The Mysteries –

এটা সংগঠনটির উচ্চস্তর। এদেরকে রহস্য বলা হয় কারণ নিম্নস্তরের কেউই জানেনা উচ্চস্তরে কে কে আছে। অথচ উচ্চস্তরের সদস্যরা নিম্ন স্তরের সদস্যদের সম্পর্কে সবকিছুই জানে। এরা হলো সবচেয়ে গোপনীয় জ্ঞানের অধিকারী। যাজক এবং রাজকুমারের গ্রেড, তারপরে ম্যাজ এবং রাজার গ্রেডগুলিতে আরও বড় রহস্য ছিল।

অ্যাডলফ ফ্রেইহেরর কনিজ্জ, ইলুমিনাতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর নিয়োগকারী
অ্যাডলফ ফ্রেইহেরর কনিজ্জ, ইলুমিনাতির জন্য সবচেয়ে কার্যকর নিয়োগকারী

ধারনা করা হয় এই স্তরে আছেন বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, ইউএস মিলিটারির জেনারেল, ইহুদি প্রধান এবং ১৩ টি পরিবারের কর্তা ব্যক্তিরা। এরাই পুরোপুরো সংগঠন তথা পুরো পৃথিবীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ঘটনাবলির পেছনে কলকাঠি নাড়ায়। কথিত আছে ভ্যাটিকান পোপও এদের মাঝে রয়েছেন। ইলুমিনাতিদের জার্মান শাখার নাম হচ্ছে থুলু সোসাইটি যার সদস্য ছিলেন এডলফ হিটলার। আমেরিকার শাখার নাম হচ্ছে স্কাল এন্ড বোন্স এবং সোসাইটি অফ ইয়েল যার সদস্য বুশ ১ ও ২।

তবে কি এই ইলুমিনাতি’ই দাজ্জাল? ইলুমিনাতির টিম মেম্বাররা ভয়ংকর স্মার্ট। হলিউডে নায়ক-নায়িকা, পপ তারকা হতে হলে ইলুমিনাতির মেম্বার হতে হয়। ইলুমিনাতি যখনই টুইন টাওয়ার টাইপ কোন কান্ড ঘটাতে যায়, তখনই আমেরিকায় নতুন নোট চালু করে সেই নোটে ক্লু দিয়ে দেয়। একেবারে প্রকাশ্যে সবকিছু জানিয়ে তারপর কাজ সারে। এমনি টুইন টাওয়ার ধ্বংসের কাহিনীও ২০০১ এর আগেই আমেরিকান ৫ ডলার নোটে দেয়া হয়েছিলো। কেউ সেটা বুঝতেও পারেনি। ইলুমিনাতির সাইন আছে জাতিসংঘের লোগো তে, আছে এমিনেম বা লেডি গাগার ভিডিও তে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার প্রচন্ড জনপ্রিয় সিম্পসন্স কার্টুনের নানান সময়ের এপিসোডে পরবর্তী ভয়াবহ ঘটনাগুলোর অনেক আগে থেকে ইঙ্গিত দিয়ে দেয়া। যেমন ১৯৯৭ সালে ৯/১১ এর ঘটনার ইঙ্গিত, ২০১৪ বিশ্বকাপের ৩ মাস আগেই জার্মানীর চ্যাম্পিয়ন হবার ইঙ্গিত, ১৯৯৭ তেই ইবোলা ভাইরাস আসার ইঙ্গিত। যেটার ব্রেকডাউন হয় ১৭ বছর পর ২০১৪ তে। আজ থেকে ১৫ বছর আগে ২০০০ সালের একটি এপিসোডে তাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করা এবং জয়ী হবার ঘটনা প্রচার করে। এর মাঝখানে অলরেডি দুইবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেছে। এই কার্টুন ১৫ বছর আগেই এই ভবিষ্যদ্বাণী কিভাবে করলো? আর এখন ট্রাম্প নির্বাচিত হয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ঘোষিত হয়েছেন। আর আমরাও সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে শুরু করেছি। হিলারী পোলে এগিয়ে থাকুক, বা জিতুক, নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ী হবার সিদ্বান্ত পুরোনো এবং সেটাই হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের সামনে থেকে সে স্ট্রীট গুলো বিভিন্ন দিকে চলে গেছে, সেগুলো কে রেখা ধরে পরস্পর যোগ করা হলে পাওয়া যায় একটি পেন্টাগ্রাম বা পঞ্চভূজ। যা শয়তানের সাইন হিসেবে বেশ পাকাপোক্ত। ইউরোপ আমেরিকার প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপণা বানানো হয়েছে পিরামিডের আদলে। যে পিরামিড ফারাওদের নিশান এবং একটি প্রধান ইলুমিনাতি সাইন। এতো কথা বলার একটা’ই কারণ। ‘জানা’ এবং ‘জানানো’। সচেতন হবার সময় এসেছে। জ্ঞানের পরিধি খুলুক, এটাই কামনা।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক কী কী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত আছে ইলুমিনাতির নামে –

১) প্রচুর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, শক্তিমান সিক্রেট সোসাইটি ইলুমিনাতি মূলত এ বিশ্বের সকল প্রধান ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে।

২) ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনাও ইলুমাতির হাতেই।

৩) নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি।

৪) আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কেনেডির গুপ্তহত্যা আসলে ইলুমিনাতিই করিয়েছে, কারণ তিনি বাধা দিচ্ছিলেন তাদের কাজে।

৫) “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার” ত্বরান্বিত করা। এই অর্ডারের মাধ্যমে সারা বিশ্ব থাকবে ইলুমিনাতির হাতের মুঠোয়। ১৯৯১ সালে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের কথা প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র তার ভাষণে উল্লেখ করবার পর এই তত্ত্ব তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

৬) হলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ইলুমিনাতির দখলে। এর মাধ্যমে ইলুমিনাতি আপনার অবচেতন মনে তাদের বিশ্বাসগুলো ঢুকিয়ে দিচ্ছে, কিংবা আপনাকে ব্রেইনওয়াশ করছে।


ইতিহাস সম্পর্কে আরো লেখা পড়ুন –


৭) শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। খ্রিস্টান ও মুসলিম ষড়যন্ত্র তত্ত্বমতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল (কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা অ্যান্টিক্রাইস্ট) এর আগমনের পথ সুগম করছে।

৮) বলা হয়, এই ব্যক্তিরাও ইলুমিনাতির সদস্যঃ বারাক ওবামা, পোপ, রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, জর্জ ডব্লিউ বুশ, কানিয়ে ওয়েস্ট, বব ডিলান, রিহান্না, বিয়ন্সে, লেডি গাগা, জিম ক্যারি, ম্যাডোনা প্রমুখ।

৯) বব মার্লে, কেনেডি, মাইকেল জ্যাকসন, হিথ লেজার- এদেরকে স্যাক্রিফাইস হিসেবে উৎসর্গ করে ইলুমিনাতি।

১০) সারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণকারী Bilderberg Group এর সাথে ইলুমিনাতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। [এ গ্রুপ নিয়ে আবার রয়েছে বিশাল থিয়োরি]

১১) ডিজনি কার্টুনের মাধ্যমে ইলুমিনাতি শিশুমনে ইলুমিনাতির বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে চায়।

১২) ইলুমিনাতির বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে একটি ইউএফও ক্র্যাশ করানো হয় আমেরিকার রজওয়েলে, সেখান থেকে চারজন এলিয়েনকে উদ্ধার করা হয়। আমেরিকান মিলিটারির সহায়তায় তারা ব্ল্যাকমেইল করে তাদেরকে বাধ্য করে এলিয়েন প্রযুক্তি বিনিময় করতে। তাছাড়াও কিছু আকার পরিবর্তনে সক্ষম রেপ্টিলিয়ান এলিয়েন দ্বারা তারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বদল করেছে, যেন তাদের মতই দেখতে এলিয়েনরা কাজ চালিয়ে যায়, যেমন রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ একজন রেপ্টিলিয়ান এলিয়েন। তাছাড়া উন্নত ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আসল ব্যক্তিদের হুবহু ক্লোন বসিয়ে দিয়ে পুরো বিশ্বের দখল নিয়ে নিচ্ছে ইলুমিনাতি।

স্কাল এন্ড বোন্স সোসাইটি'র ক্ষমতাধর সদস্যবৃন্দ
স্কাল এন্ড বোন্স সোসাইটি’র ক্ষমতাধর সদস্যবৃন্দ

১৭৯৭ এবং ১৭৯৮ সালের মধ্যে, অগাস্টিন ব্যারুয়েলের Memoirs Illustrating the History of Jacobinism এবং জন রবিসন নামে Proofs of a Conspiracy এক বই লিখেন যেখানে দাবি করা হয় ইলুমিনাতি এখনও জোরসে বেঁচে আছে, বহাল তবিয়তে। অসম্ভব জনপ্রিয় হয় সে বই গুলো। দুটো বই প্রচুর বিক্রি হয়। বইতে বলা হয় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগের সেই ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের পেছনের কলকাঠি নাকি আসলে ইলুমিনাতিই নেড়েছে। এ বই দুটো সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে রেভারেন্ড মোর্স ও অন্যান্যরা প্রচার করলেন ইলুমিনাতির বিরুদ্ধে। ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক এবং লেখক মার্ক ডাইস যুক্তি দিয়েছেন যে ইলুমিনাতি আজ পর্যন্ত টিকে আছে। নতুন করে বর্তমান সময়ে এটি আবার আলোচিত হতে শুরু করেছে ড্যান ব্রাউন এর “অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডিমনস” উপন্যাসের মাধ্যমে। মানুষ মনে করে থাকে ইলুমিনাতি সদস্যরা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তাঁর কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।

প্রচুর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, ইলুমিনাতিই মূলত এ বিশ্বের সকল ভূরাজনৈতিক কার্যক্রম “পরোক্ষভাবে” নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। উদাহরণস্বরূপ-ফরাসি বিপ্লবের সূচনা ইলুমিনাতির হাতে। নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করে ইলুমিনাতি। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কেনেডির গুপ্তহত্যা আসলে ইলুমিনাতিই করিয়েছে, কারণ তিনি বাধা দিচ্ছিলেন তাদের কাজে। শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করে ইলুমিনাতি। হলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ইলুমিনাতির দখলে। এর মাধ্যমে ইলুমিনাতি আপনার অবচেতন মনে তাদের বিশ্বাসগুলো ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ইহুদি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, ইলুমিনাতির এক চোখা প্রতীক প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংগঠন যারা একচোখা দাজ্জাল (কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা এন্টিক্রাইস্ট) এর আগমনের পথ সুগম করছে।

ইলুমিলুমিনাতি সিম্বল-দি অল সিয়িং আই :

ইলুমিলুমিনাতির বাহ্যিক প্রতীক হল The All seeing Eye আর ত্রিভুজ। তবে তাদের আভ্যরীণ ও প্রকৃত প্রতীক হল Owl of Minerva।

এছাড়া ও তারা নিজেদের মধ্যে পরিচিত হতে বিভি অঙ্গভঙ্গি, চিহ্ন বা সংকেত ব্যবহার করে। তাদের এমনই এটি সংকেত আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সুকৌসুকৌশলে ভাইরাল করেছে, মুসমুলিমদের ঈমান নষ্ট করার উদ্দ্যেশ্যে। সাংকিতিক চিহ্ন টি হলো LOL এর মূল অর্থ হলোঃ Lusifer is Our Lord. অর্থঃ লুসিলুসিফার নামক শয়তান আমাদের ঈশ্বর। তাই মুসলিমরা নতুন শব্দ ব্যবহারে সাবধান।

ইলুমিলুমিনাতি টুইনটাওয়ার –

এই পর্বের শেষে একটি মজার তথ্য দিয়ে যাই, টুইনটাওয়ার  ধ্বংসের পিছনে ও ইলুমিলুমিনাতির হাত রয়েছে। এটি সেই “ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার” ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে মনে করা হয়। কারন এর দায়ভার বিশেষ একটি জনগোষ্ঠির (মুসলিমদের) উপর চাপিয়ে দিয়ে খুব সহজেই সেই জনগোষ্ঠিকে দমন করা যায়। এটা একটি থিওরী মাত্র যার নামকরন হবে বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাস দমন। যা তাদের অনুগতদের মাধ্যমে প্রতিটা রাষ্ট্রে পৌছে দিয়ে তাদের পথের কাটা মুসলিমদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া। খুব সহজেই বলা যায়, এতে তারা পুরোপুরো সফল হয়েছে, এখনো এর দায়ভার সেই বিশেষ জনগোষ্ঠিকেই বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। যাই হোক, এই ধারণার প্রমান হিসেবে উপস্থাপন করা হয় আমেরিকান ৫ ডলারকে, যা ১৯৯৭ সালে প্রকাশ করা হয়।

২০ ডলার নোটে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের অগাম আভাস
২০ ডলার নোটে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের অগাম আভাস

টুইনটাওয়ারে হামলার বহু আগেই মার্কিন ডলারে টুইনটাওয়ারে হামলার ছবি দেয়া হয়ে ছিলো। তবে সরা সরি নয়। ডলারটি বিশেষভাবে ভাঁজ করলেই এই দৃশ্যটি দেখা যায়! যা কেবল মাত্র ইলুমিনাতিরাই তাদের সদস্যের মাঝে এই কৌশল আদান প্রদান করতো। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সাবেক গোয়েন্দা প্রধানও তার এক লিখনিতে প্রকাশ করেছে ৯/১১ এ তাদের হাত ছিলো।

আসলে এই ষড়যন্ত্র হয়েছে অনেক আগে খ্রীষ্ঠপূর্ব ৬ শতকে ব্যাবিলনে ইহুদি ধর্ম থেকে অসংখ্য অপরাধের দায়ে বহিষ্কৃত কাবব্বালাহ সম্প্রদায় থেকে। তাদের নিজ বর্ননা মতে ইলুমিলুমিনাতিরা সেই বিতাড়িত এনজেল (যাকে ইসলাম ধর্মে আজাজিল ফেরেশতা কিংবা ইবলিস শয়তান নামে অভিহিত করা হয়) এর বংশধর যিনি ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়া মহাদেশ আটলান্টিসে বাস করতেন। এই এনজেল বা ডেমনের (শয়তান) সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যে জাতির উৎপ হয়েছে তারা আরিয়ন নামে পরিচিত। তাদেরকে “বিতাড়িত এঞ্জেল” প্রাচীন ও গোপনীয় জ্ঞান শিক্ষা দিতেন। যারা বহু বছর ধরে সকল প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা ও ধর্মের বিরুদ্ধে নিজেদের গোপন জ্ঞান ব্যবহার করে আসছে, ইলুমিলুমিনাতিরা নিজেদেরকে তাদের উরসূরী মনে করে। তারা এটাকেই তাদের চূড়ান্ত দায়িত্ব  হিসেবে মনে করে যা ক্লাস অব সিভিলাইজেশন নামে পরিচিত।

ইলুমিনাতি-3

ইলুমিলুমিনাতি সাইন –

বর্তমানে ইলুমিলুমিনাতি নিয়ন্ত্রন করছে ইউরোপ এবং আমেরিকার ১৩টি সম্পদশালী পরিবার। যাদের শক্তির মূলে রয়েছে অকাল্ট এবং ইকোনমি। এই পরিবারগুলি কলো ম্যাজিক এবং অকাল্ট চর্চা (মূলত শয়তানের উপাসনা) করে বলেই এদের ‘কৃষ্ণ অভিজাত’ বা ‘ব্ল্যাক নোবেলিটি’ বলা হয়।

একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গঠন, তাদের ধর্ম বিশ্বাসকে বিশ্বে একমাত্র ধর্ম/মতাদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাদের নিজেদের দ্বারা সমগ্র বিশ্ব শাসন করার জন্য ইলুমিলুমিনাতিরা খুব গোপনে শত শত বছর ধরে নিজেদের মধ্য আন্ত বিবাহের মাধ্যমে তাদের বংশধারা বজায় রেখেছে। তারা কোনভাবেই তাদের পরিবারের মধ্যে মিশ্র রক্ত কিংবা ভিন্ন “ব্লাড লাইন” প্রবেশ করতে দেয়নি। সেই অর্থে বলা যায়, এদের রক্ত বিশুদ্ধ শয়তানি রক্ত। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তারা তাদের ইসোটারিক (দুর্বোধ্য/বাতেনি) জ্ঞান হস্তান্তর করেছে এবং মসিহ দাজ্জাল তাদের ভাষায় এক চোখ বিশিষ্ট ঈশ্বর আবির্ভুত হওয়া পর্যন্ত তারা তা চালিয়ে যাবে। তারা তাদের ঈশবরের আগমন ত্বরান্বিত করতে বিশ্বব্যপি প্ল্যাটফরম তৈরী করছে আর মুসলিমরা এখনও বিভোর ঘুমে ঘুমাচ্ছে। ইলুমিলুমিনাতিরা নিজেদেরকে ‘এক পরিবার’ হিসেবে ও উল্লেখ করে।

যে ১৩ টি পরিবার এই বিশ্বে শয়তানি ব্লাড লাইন সংরক্ষণ করে ইলুমিলুমিনাতি পরিচালনা করছে, তারা হলঃ

১। দি এষ্টর ব্লাড লাইন (The Astor Bloodline)

২। দি বান্ডি ব্লাড লাইন (The Bundy Bloodline)

৩। দি কলিন্স ব্লাড লাইন (The Collins Bloodline)

৪। দি দ্যুপন্ট ব্লাড লাইন (The DuPont Bloodline)

৫। দি ফ্রিম্যান ব্লাড লাইন (The Freeman Bloodline)

৬। দি ক্যানেডি ব্লাড লাইন (The Kennedy Bloodline)

৭। দি লি ব্লাড লাইন (The Li Bloodline)

৮। দি ওনাসিস ব্লাড লাইন (The Onassis Bloodline)

৯। দি রেনল্ডস ব্লাড লাইন (The Reynolds Bloodline)

১০। দি রকফেলার ব্লাড লাইন (The Rockefeller Bloodline)

১১। দি রথসচাইন্ড ব্লাড লাইন (The Rothschild Bloodline)

১২। দি রাসেল ব্লাড লাইন (The Russell Bloodline)

১৩। দি ব্যান দ্যুন ব্লাড লাইন (The Van Duyn Bloodline)

যদি অনুমানকারীদের আশঙ্কা সত্যি হয়, তাহলে ধরেই নিতে পারেন, এই ১৩টি ফ্যামিলির হাতেই রয়েছে পুরো পৃথিবীর রাজনৈতিক কলকাঠি।

০৫/০৫/২০২২, ০৯.১০ PM  

তথ্যসূত্রঃ

১। উইকিপিডিয়া।

২। গুগল সার্চ।

৩। বিভিন্ন বাংলা ব্লগ।

৪। 13 Family Bloodline Article.

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *