গল্পছোট গল্প

হে মৃম্নয়ী

সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন,
– ‘দ্যাখো তুমি এখন যথেস্ট বড় হইছো। এদিকে আমারও বয়স হয়ে যাচ্ছে। এবার ব্যাবসার সবকিছু বুঝে নিয়ে আমাকে রেহাই দাও। সংসারের দায়িত্বও এখন থেকে তোমার। যদি বলো তো আমি মেয়ে দেখা শুরু করি।’ 
এই কথা শুনে আমার স্কুল লাইফের কথা মনে পড়ে গেল। আমরা প্রতিদিন টিফিন ব্রেকে আর ছুটির পর নিয়মিত গার্লস স্কুলের সামনে যেতাম মেয়ে দেখতে। 
– ‘ছিঃ আব্বু,ছিঃ। এই বয়সে এসে তুমি মেয়ে দেখা শুরু করবা? লজ্জা করবে না তোমার? তাছাড়া কুরআন শরীফে আছে, তোমরা বেগানা নারী থেকে নিজেদের দৃস্টিকে হেফাজত করো।’ 
আব্বু রাগী চোখে তাকালেন।
– ‘আমি তোমার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখার কথা বলেছি। স্টুপিড কোথাকার।’ 
– ওহ স্যরি। ইয়ে… মানে…।

আমি আমতা আমতা করে সম্মতি জানালাম। 
আজ থেকে দশ বারো বছর আগে ক্লাস নাইন-টেনে পড়াকালীন যখন গার্লস স্কুলের সামনে মেয়ে দেখতে যেতাম তখন ভীষন ভয়ে ভয়ে থাকতাম। আব্বু আম্মু বা বড় কেউ দেখে ফেললেই সর্বনাশ। বাসায় ফিরলেই উত্তম মাধ্যম। মাইর একটাও টাইলসে পড়তো না। আর আজকে স্বয়ং আব্বু নিজে আমাকে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে মেয়ে দেখতে। এই দশ বছরে দেশের যথেস্ট উন্নতি হইছে দেখতে পাচ্ছি। সেই ছোট্টবেলা থেকে এখন পর্যন্ত আমি একটাও প্রেম করিনি, তা অবশ্য না। তবে কোন রিলেশানই সিরিয়াসলি নিইনি। হালকা ফ্লার্টিং আর দু’চারদিন ফান টান করে খুব সিম্পলি টাইম থাকতেই কেটে পড়েছি। কারন আমি জীবনেও আমার আব্বু আম্মুকে কস্ট দিবো না। তাদের পছন্দমতই বিয়ে করবো। তবে আমার একটা স্বপ্ন আছে। সেটা হলো, আমার বউ যে মেয়ে হবে সে বিয়ের আগে অন্য কোন ছেলের সাথে প্রেম করতে পারবে না। তাকে মেন্টালী একদম ভার্জিন হতে হবে। সে লাইফে শুধুমাত্র আমার সাথেই প্রেম করবে। 
চায়ের কাপ নিয়ে যে মেয়ে রুমে ঢুকলো, দেখে আমার চোখ একদম কপালে। মানুষ এতো সুন্দর হয় ক্যামনে। এই মেয়ে সৌন্দর্য়ে প্রায় শচিন টেন্ডুলকারের রিভার্স সুইপের কাছাকাছি। এতোদিনে মনে হয় প্রেমের ডাবল সেঞ্চুরীও করে ফেলেছে। আব্বু আম্মুর চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে মেয়ে তাদের হেব্বি পছন্দ। বিয়ের ডেট ফিক্স করার আগে মেয়ের এক চাচা বললেন,

– ‘ওরা দুইজন একান্তে একটু নিজেদের মধ্য কথা বলে নিক।’ 
ছাদে নিরিবিলিতে আমি আর আমার হবু বউ দাড়িয়ে আছি। আমি কোন ভূমিকা ছাড়াই প্রশ্ন করলাম। 
– ‘এই লিসেন, তুমি এখন পর্যন্ত কয়টা প্রেম করছো? ফটাফট বলে ফেল।’ 
– ‘এক্সকিউজ মিইইই, এগুলা কেমন কোশ্চেন?’ 
– ‘দ্যাখো আই নো কি যে, পাস্ট ইজ পাস্ট। আমি ব্যাপারটা খুব সিম্পলি নিবো। বাট তুমি প্লিজ বলো তোমার কয়টা বিএফ ছিলো।’
– ‘প্লিজ এগুলা এখন থাক। এইসব নিয়ে আমরা পরে কখনো কথা বলবো।’ 
– ‘উহু পরে না। এখুনি। বিয়ের আগেই সবকিছু ক্লিয়ার থাকা ভালো। তাতে ভবিষ্যতে ঝামেলা হবে না।’ 
– ‘আচ্ছা তাইলে শুনেন। ফেসবুকেই একটা ছেলের সাথে হালকা রিলেশান ছিলো। আসলে তেমন কিছুই না। আমাদের দেখাই হয়নি কখনো। ফোনেই কথা হতো শুধু। দ্যাটস অল।’ 
– ‘ওহ। ইটস ওকে। তো এইটা বলো যে তোমাদের ব্রেকআপ হইলো কিভাবে?’ 
– ‘একচিলি বাসা থেকে যখন আমার বিয়ের কথাবার্তা শুরু করলো তখন আমরা ঠিক করলাম পালিয়ে যাবো। মেয়েটার মুখে কস্টের ছাপ পড়লো স্পষ্ট। তারপর সবকিছু ঠিকঠাক কিন্তু ও আর আসলো না। আমাকে ম্যাসেজ পাঠালো –
‘আমার প্রচন্ড জ্বর। প্রায় একশো চার ডিগ্রি। আমি আসতে পারবো না। তুমি প্লিজ বাসায় চলে যাও।’
তারপর থেকে আর কোন খোজ নেই। আইডিও ডিএক্টিভ, ফোনও অফ।’ 
– ‘ওহ। সোওও স্যাড।’ 
– ‘আরে ধুররর, ঐ ফালতু ছেলের কথা বাদ দেন তো। আমি জানি আমার আব্বু আম্মু আমার জন্য বেস্ট অপশনটাই খুজে আনবে। এবার আপনার কথা বলুন। কয়টা মেয়ে হুম?’
– ‘আরে বাদ দাও তো।’ 
– ‘আমারটা শুনে নিয়ে এখন বাদ দাও, না? এসব চলবে না। তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন।’ 
– ‘সত্যিই বলবো?’ 
– ‘হুম। হান্ড্রেট পার্সেন্ট সত্যি কথা বলবেন। নিন, শুরু করুন।’ 
– ‘আচ্ছা শুনো তাইলে। আমারও লাইফে বলার মতো একটা মাত্র মেয়ে ছিলো। সারাদিন, সারারাত ফোনে কথা হইতো। কতো কতো পরিকল্পনা আর সুখ স্বপ্ন, বিয়ের পরে এটা করবো সেটা করবো।  তারপর যেদিন দেখা করার কথা সেদিন একটা এক্সিডেন্টের কারনে যেতে পারলাম না।’ 
– ‘কেন? কি হয়েছিলো সেদিন?’ 
– ‘কি আর হবে।’

আমি সরাসরি আমার সামনে দাড়ানো সুন্দরী মেয়েটার চোখের দিকে তাকালাম,

– ‘আমার সেদিন ভীষন জ্বর ছিলো। একটা মুচকি হাসি দিলাম, প্রায় একশো চার।।।’

২৯/০৭/২০২২, ১০.০০ AM  

S-Desk

স্টোরি ডেস্ক নিউজ সেল-এর একটি নিবেদিত সাহিত্য বিভাগ, যেখান থেকে গল্প, ছোটগল্প ও অনুবাদ গল্প প্রকাশ করা হয়। দেশি-বিদেশি সাহিত্যের বিভিন্ন ধারা থেকে নির্বাচিত ও অনূদিত রচনা পাঠকের কাছে তুলে ধরাই এই ডেস্কের মূল লক্ষ্য। মানবিক সম্পর্ক, জীবনবোধ ও বাস্তবতার বিভিন্ন দিক নিয়ে রচিত গল্পগুলো সহজ, প্রাঞ্জল ভাষায় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে স্টোরি ডেস্ক। মৌলিক লেখার পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গল্পের বাংলা অনুবাদও এখানে নিয়মিত প্রকাশিত হয়। যেসব গল্পে নির্দিষ্ট কোনো লেখকের নাম উল্লেখ থাকে না, সেগুলো সাধারণত স্টোরি ডেস্ক কর্তৃক সংকলিত বা অনূদিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *