অনুপ্রেরণা

দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে

আপনি বাসা থেকে কোন এক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন এবং আপনার হাতে সময় খুবই কম। তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠলেন, কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তার মাঝে বাসের চাকা পাংচার। বাসের কর্মচারীরা আপনাদের অনুরোধ করলো ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে। কিন্তু আপনি যেই জায়গায় আছেন সেখানেই অসংখ্য বাস আছে আপনার গন্তব্যের। এবার আপনি কি করবেন? নিশ্চয়ই আপনি আর অপেক্ষা না করে সেই বাসে উঠে যাবেন। শুধু আপনি না, সেই বাসের অধিকাংশ ব্যাক্তি এই কাজটি করবে। এখন যদি আমি আপনাকে স্বার্থপর বলি, আমি যদি প্রশ্ন করি অপেক্ষা করলে কি এমন হতো, বেচারাদের এমন কষ্টের মুখে একা ফেলে যাওয়া ঠিক হয় নি আপনার। এবার নিশ্চয়ই আপনার মনে হবে, এগুলো কি অসংগতিপূর্ণ কথাবার্ত! ঠিক তেমনি আপনি যখন ভুল সিদ্ধান্ত নিতে নিতে জীবনটাকে মূল্যহীন করে ফেলবেন আপনার আশেপাশের সবাই আপনাকে ছেড়ে যাবে এটাই বাস্তবতা।

পৃথিবীতে কারো বোঝা হয়ে বেঁচে থাকার মত কষ্ট সম্ভবত আর কোন কিছুতে নাই। সমস্যা হলো, সেই কেউ মানুষটার জন্যই বিবাগী হয়ে যেদিকে দু’চোখ যায় সেদিকে চলে যাওয়া যায় না। পিছুটান নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। পৃথিবী মানুষের পরীক্ষা নেয়। এই পিছুটানের প্রতি এক বুক ভালোবাসা নিয়ে তাই বোকা মানুষগুলো সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়। আবার কিছু মানুষ সেই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সবাইকে ছেড়ে নতুন জায়গায় পাড়ি জমায়। তখন শুধু সে বেঁচে থাকে না। কিন্তু উপারে একসময় আরেকটা মানুষ ঠিকই কষ্ট পায়। একসময় ধুকে ধুকে সেও মরে যায়। তারপরেও সেই মানুষটাকে আমরা যখন জিজ্ঞেস করি,

– কেমন আছো?

সে উত্তরে অনেক বড় নিঃশ্বাস ফেলে মিথ্যা বলে,

– ভালো আছি! অনেক ভালো, আগের থেকেও ভালো আছি!

কখনো কারো বোঝা হয়ে থাকবেন না, এতে আপনার ক্ষতি। যখন কারো বোঝা হয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেবেন তখন বুঝতেই পারবেন না। যেদিন আপনাকে সে কথা শুনাবে, ছুড়ে ফেলে দিবে, সেদিন ঠিকি বুঝতে পারবেন। বেঁচে থাকা সময় জুড়ে, অনুভবের ডায়েরিতে, জীবনের ব্যস্ততম যাত্রার অবসরে, বিন্দু বিন্দু করে জমানো সুখ, দুঃখ, অনুভূতির মধ্যকার সময় জুড়ে গড়েছিলাম নিজ মনের, ডায়েরিতে, কিছু শব্দ। যদিও এতটা বছর ধরে, বুকের মাঝে পুষেছি, সহস্র শব্দের শত রকমের, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ। সাহিত্যর পাতায়, পাতায়, প্রতিনিয়িত উড়ে চলা কিছু শব্দ একত্রিত করা। মন জোছনা মিশানো মনের মাধুরির শত উজ্জ্বল অনুভূতির নিখুঁত নিটোল স্ট্রাজি।

তারা অনেক স্বার্থপর, কিংবা আমার সাথে কেন থাকছোনা এই প্রশ্ন করাটা তখন ঠিক আগের ঘটনার মতোই অসংগতিপূর্ণ। জীবন মানেই যুদ্ধ, জীবন মানেই গতি। কাজেই পিছিয়ে পড়া মানুষকে সঙ্গ দিয়ে কেউ নিজে পিছিয়ে পড়তে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। হতাশা, মানুষের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা বাদ দিয়ে নিজের জীবনটাকে গুছিয়ে নিন। বাস্তব সত্য হচ্ছে আজকে রেস্টুরেন্টে বসে যে আপনাকে বাবু সোনা বলে খাইয়ে দিচ্ছে, কাল আপনার বেহাল অবস্থায় সে হয়তো একই কাজ করবে কিন্তু অপর পাশের আসনে আপনি থাকবেন না এ কথা নিশ্চিত। শেষতক কিছু ব্যাতিক্রম থাকবে এটা সত্য। হয়তো কিছু ভাগ্যবান মানুষ থাকবে যাদের অপর পাশের মানুষটি তখনো তার পাশে ছায়ার মতো থাকবে। এক্ষেত্রে সেই মানুষগুলোকে শক্ত করে আঁকড়ে রেখে, ভুল গুলো শুধরে সামনে এগিয়ে যান। নিজের জন্য না হলেও ঐ মানুষটির কথা ভেবে উঠে দাঁড়ান, কারণ সৃষ্টিকর্তা আপনাকে এক চমৎকার উপহার দিয়েছেন নতুন ভাবে সব কিছুর সূচনা করতে, শুভকামনা আপনার জন্য।

২৫/০৬/২০২২, ১০.০০ AM

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *