অনুবাদ গল্পগল্প

অপমানের উপহার

টোকিওর কাছেই এক জায়গায় এক বুড়ো সামুরাই থাকতেন সেকালে, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদেরকে বৌদ্ধধর্ম শেখাতেন তিনি। হঠাৎ একদিন শহরে এক নতুন যোদ্ধা এসে উপস্থিত হল। জীবনে কোন লড়াইয়ে হারে নি সে, কিন্তু মানুষ হিসেবে খুব একটা সুনামও ছিল না তার।

বুড়ো সামুরাইয়ের নামডাক শুনে এসেছে, তাঁকেও হারিয়ে নিজের বিজয়মুকুটে নতুন একটা পালক লাগাবে – এই আশা তার মনে। ছাত্রেরা সব বুড়ো সামুরাইকে নিষেধ করলো কমবয়সী লোকটার সাথে লড়াইয়ে যেতে, কিন্তু তিনি শুনলেন না কারো কথা।

বিকেলবেলা লড়াই দেখতে শহরের মাঝখানে এসে জড়ো হল সব মানুষ। নতুন লোকটা সামুরাইকে লক্ষ্য করে যা-তা বলতে লাগলো তাঁকে উত্তেজিত করার জন্য, যাতে তিনি লড়াইয়ে নামেন। সে বুড়োর দিকে ঢিল ছুঁড়লো, তাঁর মুখে থুথু ছিটালো, দুনিয়ার তাবত গালাগাল শোনাতে লাগলো তাঁকে – সাথে তাঁর বাপ-দাদাকেও রেহাই দিল না।

পুরোটা সময় নির্বিকার থাকলেন বুড়ো সামুরাই, তাতে নতুন লোকটার মেজাজ গেলো আরো চড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও বুড়োর কোন ভাবান্তর দেখতে পেলো না সে; শেষমেষ ক্লান্ত-অপমানিত হয়ে ফিরে গেলো। শিক্ষককে এভাবে অপমানিত হতে দেখে হতাশ হয়ে ছাত্রেরা বললো,


আরো বিদেশী গল্পের অনুবাদ পড়ুন –


– লোকটা আপনাকে এভাবে অপমান করলো আর আপনি চুপচাপ শুনে গেলেন? কেন? না হয় হারতেনই, তবু আপনার লড়াইয়ে নামা উচিত ছিল। সবার সামনে এভাবে নিজের কাপুরুষতা কেন প্রকাশ করলেন?

বুড়ো সামুরাই উত্তর দিলেন,

– কেউ যদি তোমাদের কাউকে একটা উপহার দেয়, আর সেটা সে না নেয়, তাহলে উপহারটা শেষমেষ কার ভাগ্যে জোটে?

– কেন, যে উপহার দিতে এসেছিল তার ভাগ্যে নিশ্চয়ই।

– ঠিক বলেছো। হিংসা, রাগ আর অপমানের বেলাতেও একই ঘটনা ঘটে। কেউ যখন এগুলো অন্য কাউকে দিতে আসে, আর সে তা না নেয়, তখন এগুলো যে বয়ে এনেছিল তার কাছেই ফিরে যায়।

০১/০১/২০২২, ১১.৩৫ PM

[অনুবাদ গল্প, মূল লেখক – পাওলো কোয়েলহো]

N-Desk

ন্যাশনাল ডেস্ক যা কোথাও কোথাও N-Desk নামেও পরিচিত। এই ডেস্ক থেকে অবিনশ ব্লগে বাংলাদেশের চলমান ঘটনা তুলে এনে পেশ করা হয়ে থাকে। আপনিও চাইলে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যে কোন তথ্য কিংবা ঘটনা সম্পর্কে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *