অবিবাহের বিবাহিত ভ্রাতা সমাচার
বিবাহিতদের জন্য অনেক জ্ঞানী গুনী জন অনেক কথা, কাব্য, শিল্প, সাহিত্য রেখে গেছেন। কিন্তু অবিবাহিত ভাইদের জন্য আজকের এই লেখার অবতারনা। আপনি অবিবাহিত হয়ে থাকলে নিচের টিপস গুলো শুধুমাত্র, একান্তই আপনার জন্য।
১। বিবাহিত বন্ধুদের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখেই বসা ভালো। কারন নচিকেতা বলেছেন, পুরুষ মানুষ দুই প্রকার – জীবিত এবং বিবাহিত।
২। বিবাহিত বন্ধুদেরকে বন্ধু সুলভ না হয়ে সিনিয়র সুলভ আচরন করুন। বন্ধুকে সিনিয়র ভাবতে সমস্যা হলে মনে মনে ধরে নিন, আপনার বিবাহিত বন্ধু সদ্য “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়” চালাইবার ক্ষমতা পাইয়াছেন। এর পর বিবাহিত বন্ধুরা আপনাকে জন সমক্ষে আপনার ম্যাচুরিটি নিয়া প্রশ্ন তুলিয়া বাক্য বানে ঝাঁঝরা করিলেও আপনি সেই সো কলড অবিবাহিত সেসব শুনিয়াও না শোনার ভান করিয়া বাকি জীবন বিন্দাস কাটাইয়া দিতে পারিবেন। কারন জানেন নিশ্চই – এই দেশের “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়” এর গদি খানা এমনই। যে ই বসে, সে ই অনেক ম্যাচিউর (!!!) আচরন করে।
৩। বিবাহিত বন্ধুদের ভুলেও আপনার জন্য পাত্রী খুঁজার কথা বলবেন না। কারন ততদিনে আপনার বন্ধুরা বিয়ে বিদ্বেষী, মুনি ঋষি টাইপ সাধু সন্ন্যাসীতে রূপান্তরিত হয়েছে এবং বোনাস হিসেবে, তারা আপনাকে জীবনেও বিয়ে না করার ওয়াজ নসিয়ত প্রদান করছে।
৪। বিবাহিত কোন বন্ধু যদি সিরিয়াসলি পাত্রী দেখেই ফেলে (যদিও ৯৯% ক্ষেত্রে সম্ভাবনা নেই, তবুও) তবে জানবেন – হয় খুব ভালো কাউকে পেতে যাচ্ছেন নচেৎ যাবত জীবন কারাবাসের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। তবে সুখবর হলো – পাশের সেলে আপনি আপনার প্রান প্রিয় বন্ধুটিকে “কারা সঙ্গী” হিসেবে পাচ্ছেন।
৫। বন্ধুর বিয়ের প্রথম বছর ভুলেও বিবাহিত বন্ধুর বাড়ি মুখো হবেন না। কারন, এই বছর হলো আপনার বন্ধুর জন্য – “মধু মাস”। নামে মধু মাস হইলেও আদপে আপনার বিবাহিত বন্ধুর মধু খাইয়া শেষ করিতে মোটামুটি এক বছর লাগিয়া যাইবে।
৬। বন্ধুর বিয়ের দ্বিতীয় বছর ভুলেও উক্ত বিবাহিত বন্ধুর বাড়ি মুখো হবেন না। কারন, তারা সদ্য “মধু মাস শেষ করে “রিয়ালিটি শো” অর্থাৎ বাস্তব জীবনে প্রবেশ করেছেন এবং সংসার-চাকুরি ও নিজের বৌ সহ দুই পরিবারের ফ্যামিলি মেম্বারদের সাথে পরিচয় ও দাওয়াত খেতে ও খাওয়াইতে ব্যতি ব্যস্ত আছেন। সুতরাং সেখানে আপনার “নো এন্ট্রি”।
৭। বন্ধুর বিয়ের তৃতীয় বছরও ভুলেও উক্ত বিবাহিত বন্ধুর বাড়ি মুখো হবেন না। কারন এবার বিবাহিত বন্ধুর আনাগোনা আপনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হইবে। কথায় আছে – বিয়ের প্রথম বছর বৌ বলে স্বামী শুনে, দ্বিতীয় বছর স্বামী বলে বৌ শুনে, আর তৃতীয় বছর স্বামী-স্ত্রী দুজনে বলে পাড়া প্রতিবেশী শোনে। এবার আপনার শোনার পালা। সুতরাং প্রস্তুত থাকুন।
৮। বিবাহিত বন্ধুদের খারাপ আচার আচরন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। কারন, তারা বিবাহিত হওয়ার কারনে তাদের বিবাহিত লাইফ নিয়া অনেক বেশি ফ্রাষ্ট্রেশন, টেনশন, জব/ব্যবসা নিয়া পেরেশান, বৌ’এর হ্যান-হ্যান+প্যান-প্যান+ত্যান-ত্যান নিয়া অনেক বেশি ত্যাক্ত বিরক্ত থাকে। তাই কখন কাকে কি বলে, কি করে, কি লিখে আর কি পড়ে তা কেবল সেই জানে ও বুঝে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার ভুলে গেলে চলবে না – বিবাহিত প্রানী মাত্রই “ম্যাচিউর প্রানী”।
৯। বন্ধুর বৌ যতই আপনার বান্ধবী, ছোট বোন টাইপ কিংবা কাছের আত্নিয়া হোক না কেনো বন্ধুর বৌ’কে নিয়ে জোকস না করাই ভালো। তা না হলে আড্ডা শেষে বাসায় ফিরে দেখবেন, বন্ধু তালিকা থেকে এক এক করে বন্ধুর বৌয়েরা আপনাকে ডিলিট করা শুরু করে দিয়েছে।
পরিশেষে, বিখ্যাত ব্যাক্তিদের বিবাহ বিষয়ক কিছু জোকস দিয়ে লেখাটি শেষ করছি –
“যে করেই হোক বিয়ে করুন। কপাল ভালো হলে আপনি সুখী হবেন আর কপাল খারাপ হলে হবেন দার্শনিক।”
সক্রেটিস (৪৭০/৪৬৯-৩৯৯ খ্রিষ্টপূর্ব), গ্রিক দার্শনিক
“অবিবাহিত লোকজনের ওপর বেশি করে কর আরোপ করা উচিত। অল্প কজন মানুষ অন্যদের চেয়ে বেশি সুখে থাকবেন, এটা তো অবিচার।”
অস্কার ওয়াইল্ড (১৮৫৪-১৯০০), আইরিশ লেখক
“বিয়ে আসলে যুদ্ধে যাওয়ার মতো রোমাঞ্চকর গল্প।”
জি কে চেস্টারটন (১৮৭৪-১৯৩৬), ইংরেজ লেখক
“বিয়ে করা আসলে নতুন ঘোড়া কেনা বা অপরিচিত নাপিতের কাছে চুল কাটানোর মতো অভিজ্ঞতা।”
ডব্লিউ সি ফিল্ডস (১৮৮০-১৯৪৬), মার্কিন অভিনয়শিল্পী
“যিনি যুদ্ধে যাচ্ছেন বা বিয়ে করতে যাচ্ছেন, তাঁকে পরামর্শ না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।”
স্প্যানিশ প্রবাদ
“ভালোবাসা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বিভ্রম আর এই বিভ্রম সারানোর উপায় হচ্ছে বিয়ে।”
কার্ল এম বাউম্যান (১৮৮৮-১৯৭৩), মার্কিন চিকিৎসক
“সবাই বলে বিয়ে একটি মহৎ প্রতিষ্ঠান। আমি এখনই প্রতিষ্ঠান হতে রাজি নই।”
মে ওয়েস্ট (১৮৯৩-১৯৮০), মার্কিন অভিনয়শিল্পী
“পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর খাবারের নাম ওয়েডিং কেক।”
জেমস থারবার (১৮৯৪-১৯৬১), মার্কিন কার্টুনিস্ট
“বিয়ে এমন একটি চুক্তিপত্র, যেখানে একজন কোনো দিন জন্মদিন ভোলেন না, আরেকজন কোনো দিন জন্মদিন মনে রাখেন না।”
অগডেন ন্যাশ (১৯০২-১৯৭১), মার্কিন কবি
“বিয়ে আসলে তিন রিংয়ের সার্কাস। ‘এনগেজমেন্ট রিং’, ‘ওয়েডিং রিং’ আর ‘সাফারিং’।”
মিল্টন বার্লে (১৯০৮-২০০২), মার্কিন অভিনয়শিল্পী
“একজন অবিবাহিত তিনিই, যিনি একই ভুল দ্বিতীয়বার করেন না।”
ফিলিস ডিলার (১৯১৭-২০১২), মার্কিন অভিনয়শিল্পী
“আমার বাসায় আমিই কর্তা। আমার স্ত্রী শুধু সিদ্ধান্ত নেন।”
উডি অ্যালেন (জন্ম: ১৯৩৫), মার্কিন অভিনয়শিল্পী
“ইংরেজি ভাষায় ‘আই অ্যাম’ একটি ছোট বাক্য আর বিবাহিত জীবনে ‘আই ডু’ সবচেয়ে বড় বাক্য নয় কি?”
জর্জ কার্লিন (১৯৩৭-২০০৮), মার্কিন অভিনয়শিল্পী
২০/০৬/২০২২, ০৯.০০ AM
